Elephant, Borjora, বড়জোড়ার জঙ্গলে ফের হাতির হানায় মৃ*ত্যু যুবকের, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ জুলাই: হাতির হানায় এক যুবকের মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছে বড়জোড়া জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলি। ৩ দিন আগে ঝাড়গ্রাম পেরিয়ে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর রেঞ্জে ঢুকে পড়েছে ১৬টি হাতির একটি দল। ওই হাতির দল বরাবরই বড়জোড়ার জঙ্গলে ঢুকে আস্তানা গাড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এই এলাকায় এটাই যেন চিরন্তন সত্য। শনিবার সন্ধে নামতেই হাতির দল ঢুকে পড়ে বড়জোড়ার জঙ্গলে। ঢুকেই প্রাণ কেড়ে নেয় এক যুবকের। হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়জোড়ার জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম গুলির আশঙ্কিত বাসিন্দারা বন দফতরের উপর যেমন ফুঁসে উঠেছে, তেমনি হাতি সমস্যা সমাধানের জেলা সংগঠন সংগ্রামী গণমঞ্চের সদস্যরাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

গতকাল রাতে স্বপন পন্ডিত (৩৫) নামে এক যুবককে শুঁড়ে পেঁচিয়ে পা দিয়ে থেঁতলে দেয় একটি হাতি। ওই যুবক বড়জোড়ার দেজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার সকালে স্বপন পন্ডিতের মৃতদেহ উদ্ধার হলে এলাকাবাসীরা বাঁকুড়া- দুর্গাপুর ৯ নং রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। স্বপন পন্ডিত দেজুড়ি মোড়ের একটি হোটেলে কাজ করতেন। স্ত্রী রীতা পন্ডিত ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি স্থানীয় দেউচা গ্রামে থাকেন। তাঁর স্ত্রী খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শোকার্ত রীতাদেবী জানান, রাত ৯টা নাগাদ স্বপন পন্ডিত তাকে ফোন করে জানান তিনি হোটেলের কাজ সেরে দেউচায় আসছেন। দেজুড়ি মোড় থেকে দেউচা আসতে হয় জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। স্বপন পন্ডিত গ্রামে পুরনো বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি করছেন। সেই কারণে দেউচার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাইকে করে যাতায়াত করছিলেন কিছুদিন ধরে। এদিন রাতেও তিনি বাইকে দেউচা যাচ্ছিলেন। তার আসতে দেরি দেখে রীতাদেবী স্বপন বাবুকে ফোন করলে ফোন বেজে গেলেও ফোন রিসিভ হয়নি। রীতা পন্ডিত বলেন, তিনি ভেবেছিলেন তাহলে গ্রামের বাড়িতেই থেকে গেছেন। রবিবার ভোর হতেই তাঁর কাছে এই মর্মান্তিক পরিণতির খবর আসে। তারপরই বাসিন্দারা বাঁকুড়া- দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে। ঘন্টা খানেক অবরোধ চলার পর পুলিশি আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।

সংগ্রামী গণমঞ্চের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি এই প্রাণহানির ঘটনার জন্য জেলা বন কর্তাদের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, হাতি ঢুকেছে জেনেও বন দফতর কেন হাতিদের একটা নির্দিষ্ট এলাকায় আটকে রাখার ব্যবস্থা করেনি। তাদের গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর হাতির আক্রমণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। বর্ষায় ধানের বীজতলা তো তছনছ করছেই। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে মৃতের পরিবারকে যে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তা দ্বিগুণ দিতে হবে এবং পরিবারের ১ জনকে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। পাশাপাশি দাঁতাল বাহিনীকে জেলার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। গত ২ মাস ধরে ৬টি দলছুট দাঁতাল হাতি বড়জোড়া এলাকায় থাকলেও তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ১৬টি হাতির দল।

বড়জোড়ার রেঞ্জ অফিসার সৈয়দ সফিউর রহমান বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলেই নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হাতিগুলির গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *