আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৯ জুলাই: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নাম তোলার ক্ষেত্রে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক দাবি করলেন হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চায়েত অফিস থেকে শুরু করে বিডিও এবং এসডিও অফিসে এখনও ‘ঘুঘুর বাসা রয়েছে। টাকা নিয়ে বেছে বেছে উপভোক্তাদের নাম তালিকায় তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার চাঁদপাড়ায় আয়োজিত মতুয়া সম্মেলন ও গুণীজন সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিযোগ করেন অসীম সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার, বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার- সহ বিশিষ্টজনেরা।

মঞ্চ থেকেই খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার উদ্দেশে অসীম সরকার বলেন, পঞ্চায়েত, বিডিও ও এসডিও অফিসে এখনও ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙেনি। তাঁর দাবি, আগেও যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদের অনেকের নাম অন্নপূর্ণা যোজনাতেও আগে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ বিজেপি সমর্থক পরিবারগুলির বহু মহিলা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি। অসীম সরকারের আরও অভিযোগ, এসসি কার্ড সংক্রান্ত নানা সমস্যায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি ডিআইবি এবং বিডিও অফিসে নাগরিকত্বের শংসাপত্র গ্রহণ না করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অসীম সরকার দাবি করেন, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু ক্ষেত্রে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ‘তিন হাজার টাকা পাবেন, তার মধ্যে ৫০০ টাকা দিতে হবে’—এমন কথাও বলা হচ্ছে। তবে তাঁর এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
অন্যদিকে, খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীরও নজরে রয়েছে। যাঁরা প্রকৃতভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা সকলেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। এজন্য কিছুটা ধৈর্য ধরার আবেদন জানান তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। তাঁর দাবি, আগের সরকারগুলি মতুয়াদের শুধু রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। বর্তমান সরকার মতুয়া পর্ষদ গঠন করে তাঁদের উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পর্ষদের অর্থে মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং মতুয়া সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

