আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৯ জুলাই: বিহার থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকায় ঢোকার আগেই সিআইডির হাতে গ্রেফতার হলেন এক গৃহবধূ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের অনুমান, বিহার থেকে এই অস্ত্রগুলি হাবড়া ও সংলগ্ন এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যেই আনা হচ্ছিল। তবে ঠিক কোথায় এবং কার কাছে এই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম পূজা বিশ্বাস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হাবড়া এলাকায় ভাড়া থাকেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তবে তার সঙ্গে এই অস্ত্র পাচার চক্রের আরও কারা জড়িত, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সিআইডি সূত্রে খবর, রবিবার গোপন সূত্রে তদন্তকারীদের কাছে খবর আসে, বিহার থেকে এক মহিলা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ নিয়ে হাবড়ার দিকে আসছে। খবর পাওয়ার পরই তৎপর হয়ে ওঠেন সিআইডি আধিকারিকরা। অস্ত্র পাচারের এই খবরের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সিআইডির একটি বিশেষ দল হাবড়া- নৈহাটি রোডের ৮ নম্বর কালীবাড়ি এলাকায় ওত পেতে থাকে। অভিযোগ, ওই সময় অশোকনগর থানার কাছাকাছি হাবড়ার দিকে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী ‘ম্যাজিক’ গাড়িকে সন্দেহ হওয়ায় আটক করেন সিআইডি আধিকারিকরা। গাড়িতে থাকা যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তল্লাশি শুরু করা হয়। সেই সময় গাড়িতে থাকা পূজা বিশ্বাস নামে ওই মহিলার আচরণে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। এরপর তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় আধিকারিকদের।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যাগের ভিতর থেকে একে একে উদ্ধার হয় মোট ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে ৭ এমএম এবং ৯ এমএম- এর আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। শুধু আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, ওই ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ। সব মিলিয়ে ২০০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে দাবি। এরপর ঘটনাস্থলেই সমস্ত অস্ত্র ও কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। ধৃত মহিলাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ওই মহিলা নিজে এই অস্ত্রগুলি নিয়ে আসছিলেন, নাকি তিনি শুধুমাত্র অস্ত্র পাচার চক্রের একজন বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিহারের কোন এলাকা থেকে অস্ত্রগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং হাবড়ায় পৌঁছনোর পর কার হাতে সেগুলি তুলে দেওয়ার কথা ছিল, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

