Sukanta, BJP, Durgapur, আমাদের সাথে পেরে উঠবেন না! দুর্গাপুরে মহা মিছিল থেকে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ৬ অক্টোবর: “গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও,” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের ভিরিঙ্গি মোড় থেকে পাঁচ মাথা মোড় পর্যন্ত মহা মিছিল হলো বিজেপির। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ রাঢ়বঙ্গের বিজেপির বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধিরা। মিছিলের শেষে সভা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরো এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং, রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত, রাজ্যের সহ পর্যবেক্ষক রাজেন্দ্র সিং সহ স্থানীয় বিধায়করা ও জেলা সমিতির সহ নেতৃত্ব। এদিনের মিছিলে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলের শেষে সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে বিরোধীদের চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন, বিরোধীরা বলছে ভোট চুরি হয়েছে, ভোট চুরি হয়েছে। প্রথম দিকে আমরা চুপচাপ ছিলাম, কিন্তু দেখলাম বেশিদিন চুপচাপ থাকলে কাজের কাজ হবে না। রামকৃষ্ণ দেবের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন ছোবল মারতে নেই, কিন্তু ফোঁস করতে মানা নেই। তাঁর কথায়, আমাদের নেতারা তথা বিজেপি গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, তাই আমরা নেমেছি বিজেপির শক্তি দেখাতে। বিজেপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, ভদ্রতায় বিশ্বাস করে, তাই সিপিএম এখন পার্টি অফিস খুলছে আর বড় বড় কথা বলছে। তৃণমূল যখন ছিল তখন গর্তে ঢুকে ছিল। এরপরেই তাঁর হুঁশিয়ারি, আমরা শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে হলেও প্রয়োজন পড়লে অস্ত্র তুলে নিতে ভয় পাই না।

বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, যদি ভাবেন যে ফয়সালা রাস্তায় হবে, তাহলে বলবো রাস্তায় আপনারা আমাদের সাথে পেরে উঠবেন না। আপনাদের সেই দম নেই। এরপরেই তিনি তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের ছেলেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় বড় ছবি লাগিয়ে নিচে লিখতো বাংলার বাঘিনী। আমরা জানি বাঘ হরিণ ধরতে যায়, বিড়াল আরশোলা খায়, কিন্তু এখন দেখছি বাঘিনী আরশোলা ধরতে দিল্লি চলে গেছে।আরশোলার নেতাদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে সিপিএমের সঙ্গে লড়াই করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম, সেই সিপিএমের সম্পাদক বেবির সাথে কানে কানে কথা বলছেন। কিন্তু গোপনো কথাটি রবে না গোপনে।” এরপরেই ছন্দ মিলিয়ে তৃণমূল আর সিপিএমকে একসাথে কটাক্ষ করে বলেন, ” সত্য সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ, সিপিএমের বন্ধু হলো তৃণমূল কংগ্রেস।”

বিরোধীদের উদ্দেশ্য কী ? সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, যে তৃণমূল কংগ্রেস সকাল- বিকেল সিপিএমকে গালি দিত, তারা এখন একসঙ্গে হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরানো। নরেন্দ্র মোদী ১২ বছরে ভারতবর্ষের ৫০ কোটি গরিব মানুষকে চরম দারিদ্র সীমার নিচে থেকে তুলে এনেছেন, তাই তাকে সরাতে হবে। যখন মোদী দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন দেশ ছিল ১১তম স্থানে। এখন চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতবর্ষ। এই উন্নতির জন্যই মোদীকে সরাতে চাইছে তারা। সারা পৃথিবীতে ২৩টি দেশ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার মধ্যে ৯টি মুসলিম দেশ। সেই জন্য লালু- ভুলু- কালু, সবাই একসাথে কোমর বেঁধে ঘেউ ঘেউ করছে।

তবে তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা যাই বলুক, জনগণ একটা কথাই বলছে যে, “যতই কাটুক চক্কর, এমন কেউ নেই যে মোদীকে দেবে টক্কর। গতকাল নরেন্দ্র মোদী ছিলেন, আজও আছেন, ২০২৯- এও নরেন্দ্র মোদী থাকবেন। ওনাকে সরাবে এমন ক্ষমতা কারো নেই।”

এরপর আবারও তিনি বিরোধীদের একহাতে নিয়ে বলেন, “এরা সহজ নয়। দিদির আমলে লুঙ্গি বাহিনী রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। এখন লুঙ্গি বাহিনী আর বেরোয় না। কারণ বাংলার মানুষ জানে কিভাবে শায়েস্তা করতে হয়। দিদিমণি বলেছিলেন ১ মিনিটে যখন একটা গোষ্ঠী ক্ষেপে যাবে আপনাদের দেখে নেবে। দিদিমণিকে বাংলার মানুষ এক সেকেন্ডে দেখে নিয়েছে। মাত্র একটা বোতাম টিপে তৃণমূলকে হাওয়া করে দিয়েছে। তৃণমূলকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। “তাঁর দাবি, একুশে বিজেপি হেরে গিয়েছিল, তবুও তারা টিকে ছিল। ভাইপো বলেছিল এবার ভোটের পর ডিজে বাজাবে, জনগণ তাকে এখন ডিজে শোনাচ্ছে। ২০২৯- এ আবারো নরেন্দ্র মোদীর সরকার গঠন করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

সভার শেষে দলের কর্মীদের সঙ্গে মঞ্চ থেকে করমর্দন করতে দেখা যায় সুকান্ত মজুমদার সহ দলের নেতাদের। দূর দূর থেকে মিছিলে আসা কর্মীদের সাবধানে বাড়ি ফেরার পরামর্শ দেন নেতারা। কলকাতা, হাওড়ার পর দুর্গাপুরেও পৌরসভা নির্বাচন হবে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে এই মহা মিছিল সেই লক্ষ্যেরই প্রথম প্রস্তুতি বলে মনে করছে অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *