পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর: নদী ও পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি গঙ্গার পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বুধবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরের কাঁসাই নদীর ডিএভি ঘাটে সূচনা হলো ‘গঙ্গা সমগ্র গঙ্গা মহোৎসব’- এর। এই উপলক্ষে ঘাটে বিশেষ সন্ধ্যারতির আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নদী সংরক্ষণ, পরিবেশ সচেতনতা এবং জলদূষণ প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে এদিন সন্ধ্যায় ডিএভি ঘাটে এক বিশেষ আবহের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যারতির মাধ্যমে নদীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি নদীকে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখা এবং তার স্বাভাবিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। গঙ্গা শুধুমাত্র একটি নদী নয়, ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই গঙ্গার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা বজায় রাখার বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এই মহোৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ মিলনানন্দজী মহারাজ, গঙ্গা সমগ্র মিশনের সম্পাদক রাকেশ পান্ডে- সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে মহোৎসবের সূচনা পর্ব বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।

আয়োজকদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নদী দূষণ রোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নদীতে আবর্জনা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষিত বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকা এবং নদীর জলকে দূষণমুক্ত রাখার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন কারণে নদীর জল দূষিত হচ্ছে। এর ফলে শুধু জলজ প্রাণী ও নদীর পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, মানুষের জীবনযাত্রা ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নদীকে বাঁচাতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সেই সচেতনতার বার্তাকেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কাঁসাই নদীর তীরে এই মহোৎসবের সূচনা মেদিনীপুরে নদী সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রে এক বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে যুক্ত করে নদীকে দূষণমুক্ত রাখার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বেশি মানুষকে পরিবেশ রক্ষার কাজে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তারা।

