বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালিত হোল বাঁকুড়ায়

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৯ মে: বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক ও ভারতীয় সাংবাদিকতার অগ্রপথিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের ১৫৮ তম জন্মদিবস সাড়ম্বরে পালিত হল বাঁকুড়ায়।

আজ সকালে বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বাঁকুড়া শহরের পোদ্দার পাড়া মোড়ে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তির পাদদেশে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রামানন্দের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবের সম্পাদক সন্তোষ ভট্টাচার্য, সভাপতি সুনীল দাস, পৌরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার, উপ পৌরপ্রধান হীরালাল চট্টরাজ, পৌরসভার সদস্য রাজিব দে, দিলীপ আগরওয়াল, ভ্রমর চৌধুরী সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিক ও বিশিষ্ট জনেরা।

উপস্থিত সকলে এখান থেকে পদযাত্রা সহকারে পাঠকপাড়ায় রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভিটেয় গিয়ে ফুলমালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারপর রামানন্দ স্মৃতি ভবনের সামনে অবস্থিত রামানন্দের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিকের কর্মময় জীবনের আলোচনা করতে গিয়ে সন্তোষ ভট্টাচার্য বলেন, ১৮৬৫ সালের ২৯ মে বাঁকুড়া শহরের পাঠকপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন রামানন্দ বাবু। তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র রামানন্দ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেলেও তা গ্রহণ না করে অধ্যাপনা ও পত্রিকা সম্পাদনাকেই বেছে নেন। তিনি এলাহাবাদে কায়স্থ পাঠশালায় অধ্যক্ষ থাকার সময়ে এলাহাবাদ থেকে প্রকাশ করেন অত্যাধুনিক মাসিক পত্রিকা প্রবাসী। রামানন্দের ঘনিষ্ঠ সুহৃদ রবীন্দ্রনাথ প্রবাসীর প্রথম সংখ্যা থেকেই নিয়মিত কলম ধরেন। এলাহাবাদ থেকেই তিনি ইংরেজি পত্রিকা মডার্ণ রিভিউ প্রকাশনা শুরু করেন। প্রথম সংখ্যা থেকেই বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনা ও মডার্ণ রিভিউ। ‌ব্রিটিশ শক্তি আতঙ্কিত হন রামানন্দের লেখনীতে। তাঁর উপর নির্দেশ জারি হয় পত্রিকা বন্ধ করো নয়তো এলাহাবাদ ছাড়ো। রামানন্দ জীবনের ব্রত করলেন পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনাকে। তিনি অধ্যাপকের নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে পত্রিকা প্রকাশেই জীবন উৎসর্গ করলেন ‌বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিরা কলম ধরলেন মডার্ণ রিভিউ এর জন্য। এরজন্য বারবার জরিমানা দিতে হয়েছে রামানন্দকে।

রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে ভারতীয় সাংবাদিকতার জনক বলা হয়। বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জেলার সাংবাদিকরা দিনটি সাংবাদিক দিবস হিসেবে পালন করে। সরকারীভাবে এই দিনটিকে সাংবাদিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান সন্তোষ ভট্টাচার্য। এছাড়াও তার নামে হলমার্ক বক্তৃতামালা আয়োজনের জন্য বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তাঁরা একটি প্রস্তাব রাখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়াও পৌরসভার উপ পৌরপ্রধান হীরালাল চট্টরাজ ও আর্ষ পত্রিকার সম্পাদক মধুসূদন দরিপা বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *