জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ১২ মার্চ: আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে এল দুর্গাপুর ইনারহুইল ক্লাব, রোটারি ক্লাব ও রেডক্রশ সোসাইটি। আর সেই লক্ষ্যে সোমবার দুর্গাপুর রেডক্রশ ভবনে জেলায় প্রথম মহিলাদের মেগা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির করল। এদিন দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন মহিলার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, ইনারহুইল ক্লাবের সভাপতি সুকন্যা চট্টোপাধ্যায়, রেডক্রশ সোসাইটির দুর্গাপুরের প্রাক্তন সম্পাদক তথা স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ স্বদেশ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্ন, অ্যানিমিয়া কি? কতটা মানব শরীরে প্রভাব ফেলে? অ্যানিমিয়া মূলত রক্তপ্লতা। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলে। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। অ্যানিমিয়া আক্রান্তের সংখ্যা মহিলাদের তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে রক্তে ১২-১৩ গ্রাম হিমোগ্লবিন থাকা স্বাভাবিক। তার কম হলে শরীরে দুর্বলতা অনেকক্ষেত্রে শরীর ফুলে যায়। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৪-১৫ গ্রাম হিমোগ্লবিন থাকা স্বাভাবিক।
শরীরে রক্তে আয়রন ও হিমেগ্লোবিন কমে যাওয়ার ফলে আলস্য ভাব আসে। পড়ুয়ারা পড়াশোনায় অমনযোগী হয়। কাজকর্মে অনিহা ভাব আসে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে, সারা দেশে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ মহিলাদের ক্ষেত্রে রয়েছে ৬০ শতাংশ ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৯ শতাংশ। আর এই ব্যাধি সমাজে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যানিমিয়ার প্রকোপে দেশে ভালো মেধাবী তৈরীতে বাধা হওয়ার শঙ্কা থাকে। সমাজ ও দেশের অগ্রগতির জন্য শিক্ষার বিকাশ যেমন জরুরি, তেমনই শিক্ষিত মেধাবী ছেলে মেয়ে তৈরী জরুরি। আর তাই অ্যানিমিয়া প্রতিরোধের জন্য জোর তৎপর কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকার। স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টির জন্য মিডি-ডে মিলের মতো খাবার যেমন দেওয়া হয়, তেমনই পড়ুয়াদের সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রেশন দেওয়া হয়। সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রেশন হল পড়ুয়াদের সপ্তাহে একদিন আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ডোজ দেওয়া। মূলত এই নিউট্রিশন ছেলে মেয়েদের বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত জুনিয়ার উইশ(WISH) এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সিনিয়ার উইশ(WISH) দেওয়া হয়।
ভর্তি পেটে সপ্তাহে একদিন স্কুলের নোডাল শিক্ষক শিক্ষিকারা তারিখ দেখে ওই ট্যাবলেট খুলে পড়ুয়াদের খাওয়ায়। এছাড়াও গর্ভবতী মা’য়েদের দেওয়া হয় এই সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রিশন।
এদিন ইনারহুইল ক্লাবের সভাপতি সুকন্যা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে আমাদের অঙ্গিকার অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত গড়ব। তারজন্য গত কয়েকমাস ধরে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে বস্তিতে বিনামূল্যে অ্যানিমিয়া রোগ নির্নয় শিবির করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মহিলাদের আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড যুক্ত ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে। এদিনও শিবিরে মহিলাদের আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড যুক্ত ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে।”
এদিন স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ স্বদেশরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অ্যানিমিয়া সমাজ ও দেশের বড় ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যানিমিয়ার গ্রামাঞ্চল থেকে শহরাঞ্চলে বেশি প্রকোপ দেখা যায়। সরকার অ্যানিমিয়া ঠেকাতে তৎপর। তার জন্য আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। আহারে মূলত আয়রনযুক্ত খাবার ছোলা, সজনে শাক, কাঁচা কলা, আপেল বেশি খেতে হবে। আয়রন ও ফলিক অ্যসিড নিউট্রিশন ছেলেমেয়েদের অবশ্যই খাওয়ানো দরকার।”

