স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৩ মার্চ: নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে শুরু হচ্ছে এবছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। মোবাইলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে এবারই প্রথম পরীক্ষাকেন্দ্রে বসানো হচ্ছে ডিভাইস সিস্টেম। উত্তর দিনাজপুর জেলায় প্রথমবার ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর’ (RDF) যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষার হলে বা পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের উপস্থিতি সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ থেকে ইতিমধ্যেই ৩ টি আরডিএফ জেলায় এসে পৌঁছেছে। পরীক্ষার হলে প্রথমবার আরডিএফ যন্ত্রের ব্যবহার করা হবে। সেন্সর ও ক্যামেরা এই দুই ভাগে বিভক্ত ওই যন্ত্রটি পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের শরীরের পাশে ঘোরালেই বিশেষ শব্দ করে মোবাইল ফোনের উপস্থিতি জানিয়ে দেবে।

আগামী, ১৪ মার্চ থেকে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত। জেলার ৯৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে ইসলামপুর মহকুমার ইসলামপুর, চোপড়া, গোয়ালপোখর-১ ও ২ ব্লকের কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রকে অতি স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই মহকুমার করণদিঘি ও রায়গঞ্জ মহকুমার হেমতাবাদ ও ইটাহার ব্লকেও বেশ কিছু পরীক্ষা কেন্দ্র আগাগোড়াই স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত। জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ৯৫টি। তার মধ্যে প্রায় ৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্র অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। কিন্তু, মাত্র তিনটি ‘রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর’ (আরডিএফ) যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন কী ভাবে সবক’টি পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন চিহ্নিত করা সম্ভব, তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, এবছর উত্তর দিনাজপুর জেলায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮,২৭৪ জন। ছেলেদের তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুন। জেলায় ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯,৬৮৯ এবং মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮,৫৮৫। জেলায় মোট পরীক্ষাগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে ৯৫ টি। সবমিলিয়ে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় শুরু হতে চলেছে এবছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা।
প্রশ্নফাঁস রুখতে তৎপর পর্ষদ। পরীক্ষাককেন্দ্রগুলিতে তৎপরতা তুঙ্গে। পরীক্ষার দিনগুলিতে অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। স্পর্শকাতর ব্লকগুলির পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে থাকছে বাড়তি নজরদারি।

