স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২১
মে: নদিয়ার নবদ্বীপে মদের দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল মধুচক্রের আসর, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় মহিলারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গৌরাঙ্গ সেতু সংলগ্ন এলাকা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে “গোয়া টু” নামের একটি বার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দু’বছর ধরে ওই বারে প্রকাশ্যে মদের ব্যবসার পাশাপাশি গোপনে চালানো হচ্ছিল অসামাজিক কার্যকলাপ। শুধু তাই নয়, নাবালিকা মেয়েদের ব্যবহার করে সেখানে মধুচক্র চালানো হতো বলেও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসীরা। অভিযোগ, ঘণ্টাপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘর ভাড়া দেওয়া হতো, আর বারের পিছনে ছোট ছোট কুঠিরের মতো ঘরে চলত সেই বেআইনি কারবার।
এলাকার মহিলাদের দাবি, প্রথমে শুধুমাত্র মদের কাউন্টার ছিল। পরে ধীরে ধীরে সেখানে বার খোলা হয় এবং এরপর থেকেই বাড়তে থাকে অসামাজিক কার্যকলাপ। অভিযোগ, বাইরে থেকে অল্পবয়সী মেয়েদের এনে মদ্যপান করিয়ে পরে ঘর ভাড়া দেওয়া হতো। অথচ সাধারণ পরিবার বা দম্পতিরা ঘর ভাড়া চাইলে তা দেওয়া হতো না বলেও দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতাপ ঘোষ নামে এক যুবক ও তাঁর ভাগ্নে ওই এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দু’জন যুবতীকে বারের ভিতরে ঢুকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ভিতরে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। সেই সময় বারের কর্মীদের সঙ্গে বচসা বাধে, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, ওই যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়।এরপরই বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মহিলারা ও যুবকেরা। ঝাঁটা হাতে বারে ঢুকে ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরে বারের গেট ও মদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন স্থানীয়রাই। মুহূর্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় নবদ্বীপ থানার পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সামগ্রিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় মহিলাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “এই মদের দোকান আর চলতে দেব না। এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। মা-বোনেদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে।”
স্থানীয়দের আরও দাবি, চর মাজদিয়া, চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েত এলাকা থেকেও অতীতে একই অভিযোগে এই বার সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে নতুন করে গৌরাঙ্গ সেতু এলাকায় ব্যবসা শুরু করে তারা। এবার সেই ব্যবসা ঘিরেই বিস্ফোরক অভিযোগে সরগরম এলাকা।

