পুরুলিয়ায় ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের মানসিক উৎপীড়নের কারণে সহকর্মীর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অভিযোগ, দেহ রেখে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীদের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৬ জুলাই: ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের মানসিক উৎপীড়নের কারণে সহকর্মীর দুর্ঘটনায় মৃত্যু। এই অভিযোগ তুলে এবং মৃত স্বাস্থ্য কর্মীর দেহ দিন ভর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে দফতরে আটকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন জেলার মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীরা। এমনকি বিকেল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত রাঁচি রোড অবরোধ করেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জেলা স্বাস্থ্য দফতরে। অবিলম্বে ওই স্বাস্থ্য আধিকারিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এদিন বিকেলে ৩২ নং জাতীয় সড়কও অবরোধ করেন তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষে দাবি করা হয়, পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডির তুন্তুড়ি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট রিঙ্কু গরাই (৪২) এর সঙ্গে চুড়ান্ত
দুর্ব্যবহার করেন ডিপিএইচএনও কৃষ্ণা দাস। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে পুরুলিয়া শহরের জেলা স্বাস্থ্য ভবনে ডেকেও পাঠান ওই আধিকারিক। তুন্তুড়ি থেকে প্রায় আশি কিলোমিটার দূরে থাকা পুরুলিয়ায় আসা ওই সময়ে খুবই কঠিন, একথা জানালেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে এক জনের বাইকে চেপে জেলা সদরে আসতে হয় তাঁকে। এখানে একেবারে সন্ধ্যে বেলা তাঁকে ছাড়া হয় বলে জানান তুন্তুড়ি প্রাথমিক কেন্দ্রে মৃতার সহকর্মী জয়নাভ খাতুন। বাড়ি ফেরার পথে জয়পুরের কাছে বাইক থেকে পড়ে যান তিনি। এতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

তার সহকর্মীদের অভিযোগ, প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণেই উনি পড়ে গিয়ে মারা যান। এই ঘটনার পর মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্য দফতরে জড়ো হয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সিইএ এবং হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট (ফিমেল) পদে কর্মরতারা জড়ো হয়ে যান। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, ইদানীং প্রচণ্ড মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে তাদের। কিছু আধিকারিকের দুর্ব্যবহার মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড বিক্ষোভের মধ্যেই মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কুনাল কান্তি দে তাদের বোঝাবার চেষ্টা করে বিফল হন। তৎক্ষণাৎ ডিপিএইচএনও এবং ডিএমসি এইচ ও এই দুই আধিকারিকের শাস্তির দাবিতে পথ অবরোধ পর্যন্ত শুরু করে দেন তারা। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের সামনে মৃতদেহ রেখে শুরু হয় স্লোগান।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মহিলা পুলিশ সহ চলে আসেন জেলা পুলিশের কর্তারা। সন্ধ্যে পর্যন্ত দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে উচ্চস্তরীয় একটি তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যেই লিখিতভাবে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানান, মৃত স্বাস্থ্য কর্মীর ছেলে যোগেশ্বর গরাই। লিখিত অভিযোগ করা হয় স্বাস্থ্য কর্মীদের পক্ষ থেকেও। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, পাঁচ জনের একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি পনের দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। সেই মতো নেওয়া হবে ব্যবস্থা। ওয়েস্ট বেঙ্গল নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা অনিমা দেওঘরিয়া বলেন, এই কমিটির দিকে নজর থাকবে তাদের।

বুধবার সকাল দশটা থেকে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে জমায়েত হয়ে কর্মবিরতি পালন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *