আমাদের ভারত, ৩০ মে: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট শেষ হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু বুথে পুনঃনির্বাচনের দাবি উঠেছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত তিনটি সহ মোট চারটি বিধানসভা আসনে ৭৭টি বুথে পুনঃনির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। এই পরিস্থিতিতে ইভিএম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে এবং পুনঃনির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষ পর্যবেক্ষককে সেই সব বুথে পাঠালো কমিশন।
পুনঃনির্বাচনের অধিকাংশ আবেদন জামা পড়েছে বিজেপির তরফে। এর মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় ৩২টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি বুথে আবার ভোটের দাবি উঠেছে। এছাড়া মগরাহাট পূর্বের ১০টি এবং বজবজে তিনটি বুথে পুনঃনির্বাচনের আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড় জমেছে ফলতা নিয়ে। বুধবার ফলতার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথে ইভিএম-এ টেপ লাগানো ছিল বলে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষ সরব হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার রাতে প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার হুমকি দেওয়া এবং বুধবার বুথে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগের জেরে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।
প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের মধ্যে ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে ভোট গ্রহণের পর একটিতেও পুনঃনির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি। তবে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের ৪১০০১টি বুথে ভোটের পরে একযোগে ৭৭টি বুথে আবার ভোটের দাবি ওঠায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে জানা যাবে বুধবার উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই বুথগুলিতে ভোটাররা আবারও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন কি না। কমিশনের স্কুটনি প্রক্রিয়ার দিকে এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি। ৪মে ভোট গণনা, তার আগে কমিশন ৭৭টি বুথে পুনঃনির্বাচনের নির্দেশ দেয় কি না সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে আবার ভোট হলে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

