আমাদের ভারত, শ্রীরূপা চক্রবর্তী, ১ মে: আর মাত্র দু’দিন। তারপরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বাঙলায় গেরুয়া ঝড় তুলে পরিবর্তন হবে, নাকি তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে সবুজ বিপ্লব বজায় থাকবে। এই টান টান উত্তেজনার মধ্যেই ইভিএম ট্যাম্পারিং- এর অভিযোগে এক্কেবারে স্ট্রং রুমের সামনে ধর্নায় বসে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার এই পদক্ষেপকেই কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রীর ভূমিকা পালন করতে শুরু করে দিয়েছেন।
অর্থাৎ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির দাবি, ফলাফল প্রকাশের আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি ও তার দল পশ্চিমবঙ্গে হারতে চলেছে। সুকান্ত মজুমদার বলেন,
নির্বাচন হবার পর থেকেই মানুষের কাছ থেকে যে আভাস পাচ্ছি তাতে আমরা হলফ করে বলতে পারি ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার তৈরি হয়ে গেছে, আর সেটা ইভিএম- এর মধ্যে বন্ধ রয়েছে। সেটা ৪ তারিখে খুলবে এবং দেখবেন ১৬০- এর বেশি, ১৭০ বা তার বেশি আসন পাবো আমরা। তারপরই নির্দিষ্ট শুভ দিন দেখে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন এই রাজ্যে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হলে ৪ ঘন্টার বেশি সময় ধর্নায় বসেছিলেন বৃহস্পতিবার। বিজেপি ইভিএম টেম্পারিং করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। এই প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদারের স্পষ্ট জবাব, ইভিএম টেম্পারিং কি আদৌ করা যায়? তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের দিকে মানুষকে নিয়ে যেতে বেশি আগ্রহী হয়ে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার কাউন্টিং এজেন্ট এবং তার কর্মীদের মনোবল বাড়াতে সকালের দিকে একটি বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমরাই জিতছি ২৩০। কিন্তু সন্ধ্যেবেলায় তার সত্যিটা বেরিয়ে এলো। সন্ধ্যেবেলা থেকে চার ঘন্টা তিনি ধর্নায় বসলেন সেখাওয়াত মেমোরিয়াল হলের সামনে। এরপরই সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন করেন, ধর্না কারা করে? নিজেই উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীরা করে। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের গ্রহণ করেছেন। তিনি ওইটাকে মান্যতা দিলেন। তিনি মেনে নিলেন যে তিনি বিরোধী আসন নিচ্ছেন। বিরোধী নেত্রী হচ্ছেন। গতকাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলের নেত্রীর ভূমিকায় পদার্পণ করেছেন।
সুকান্তবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সত্যিটা জানেন। ভবানীপুরে তিনি হারতে চলেছেন, রাজ্যেও তিনি হারবেন। তিনি যেই সত্যটা বুঝতে পেরেছেন তখনই তিনি তার বিরোধী মোড অন করে দিয়েছেন। ধর্নায় বসে গেছেন তিনি। বিরোধী দলের নেত্রীর ভূমিকা পালন করতে শুরু করে দিয়েছেন, কারণ তিনিও নিজের জানেন ফলাফল টা কী?
কিন্তু সকালে ২৩০ আসন পাওয়ার বার্তা তাহলে তৃণমূল সুপ্রিমো কেন দিলেন? সুকান্ত মজুমদার বলেন, সকাল বেলার তাঁর ঐ বার্তাটা ছিল মুসড়ে পড়া, নুইয়ে পড়া তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে একটু জাগরণ তৈরি করার জন্য। কিন্তু এতে তারা উঠবে না, কারণ তার দলের লোকেরাও বুঝে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ধর্নায় বসছেন, মেশিন টেম্পারিং, লাইট অফ হয়ে যাওয়া, এসব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন, তখন পরাজয় নিশ্চিত।
তিনি বলেন, যেখানে ইভিএম রাখা হয়েছে তার ২৪ ঘন্টা সিসিটিভি মনিটরিং হচ্ছে। মনিটরিং তৃণমূল কংগ্রেসের লোকেরা অবশ্যই দেখছেন, অর্থাৎ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এটা হতে পারে গণনার সময় রাজ্য সরকারের কর্মীরা করতে পারেন। ইভিএম মেরে ভেঙ্গে দেওয়া হলো। আমরা বিরোধী হয়ে এতদিন যেটা বলতাম সেটা এখন তৃণমূল কংগ্রেস বলছে। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিয়েছেন যে তারা বিরোধী। তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিরোধী দল। আর বিজেপি শাসক দলের জায়গায় চলে এসেছে। কুনাল ঘোষ, শশী পাঁজা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং যখন স্ট্রং রুমে পৌঁছেছেন তখন বুঝতে হবে তৃণমূল কংগ্রেস আত্মবিশ্বাসহীনতার জায়গায় পৌছে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়াটা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

