TMC, Supreme court, ধাক্কা খেলো টিএমসি! গণনা কেন্দ্রে কেন্দ্র সরকারের কর্মী রাখার বিরোধিতা করে তৃণমূলের করা মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট

আমাদের ভারত, ২ মে: ২৬- এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, কিন্তু শনিবার শীর্ষ আদালতের বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল এই প্রক্রিয়ায় তারা কোনরকম হস্তক্ষেপ করবে না।

কলকাতা হাইকোর্টের পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বড়সড় ধাক্কা খেলো রাজ্যের শাসক দল। বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

আদালতে তৃণমূলের পক্ষে সাওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিম্বল। তিনি প্রথমেই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। এরপরই তিনি কমিশনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হলেও আমরা তা জানতে পেরেছি ২৯ তারিখ। কমিশন কেন আশঙ্কা করছে যে প্রতিটি বুথে অশান্তি হতে পারে? এমন উদ্বেগের ভিত্তি কী? প্রতিটি গণনা টেবিলে মাইক্রো অবসার্ভার হিসেবে ইতিমধ্যে একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী রয়েছে। তাহলে নতুন করে আরো একজন কেন্দ্রীয় কর্মীর প্রয়োজন পড়ছে কেন?

তৃণমূলের আইনজীবীর মূল আপত্তি ছিল রাজ্য সরকারের কর্মীদের না রাখা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, সার্কুলার বা নির্দেশিকা অনুযায়ী গণনা টেবিলে রাজ্য সরকারের কর্মীদের থাকা উচিত, কিন্তু এ ক্ষেত্রে রাজ্য মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। সিব্বলের মতে গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কার কথা বলে আসলে পরোক্ষভাবে রাজ্য সরকারের ওপরে অনাস্থা প্রকাশ করছে কমিশন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা না করে বা তথ্য না দিয়ে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

তৃণমূলের এই যুক্তি গ্রহণ করতে রাজি হননি বিচারপতিরা। উল্টে প্রশ্ন করেন কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, এমন নিয়ম কোথায় রয়েছে? বিচারপতি পিএস নরসিংহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, তদন্তকারী বা গণনা সহকারী হিসেবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য উভয় স্তরের কর্মীরাই থাকতে পারেন, যখন নিয়মে এই বিকল্প রয়েছে তখন একে বিধি বিরোধী বলা যায় না। তিনি আরো যোগ করেন, রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের আলাদা চোখে দেখাটাই এক ধরনের ভ্রান্তি। আসলে তারা সকলেই সরকারি কর্মচারী।

যুক্তি দেওয়া হয় গণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে, তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারের আধিকারিক। ১৩ এপ্রিল তারা যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল সেই অনুযায়ী কাজ হবে। আদালত অতিরিক্ত আর কোনো নির্দেশ দেয়নি।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর তৃণমূলের অস্বস্তি যে আরো বাড়লো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কমিশন সূত্রে খবর, গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সবুজ সংকেত দেওয়ায় এখন কেন্দ্রীয় কর্মীদের গণনা কেন্দ্রে নিয়োগ করার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের কড়া নজরদারিতেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে রাজ্য বিধানসভা ভোটের সব দলের প্রার্থীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *