Jawan, Birbhum, শোকের ছায়ায় বীরভূম, জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত অবস্থায় তরুণ জওয়ান অনুপম মণ্ডলের রহস্যমৃ*ত্যু

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ২ মে: দেশ রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হল এক অগ্নিবীরের। নিহত অগ্নিবীরের নাম অনুপম মণ্ডল (২৪)। বাড়ি বীরভূমের মল্লারপুর থানার সোঁজ গ্রামে। যুবকের অকাল মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই দুই নিকট আত্মীয় জম্মু-কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সাড়ে ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সী যুবকদের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদী নিয়োগের প্রকল্পের নাম ‘অগ্নিবীর’। চাকরির মেয়াদ চার বছর। যুবকদের সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। মেয়াদ শেষে তাদের মধ্যে থেকে ২৫ শতাংশ যুবককে সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ দেওয়ার নিয়ম। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ওই বছরের ২৮ মার্চ কাজে যোগদান করেন অনুপম। জম্মুতে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অনুপম। মা মল্লিকা মণ্ডলের দাবি, ছেলের কথাবার্তায় কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না। সেই সময় পরিবারের কারও মনেই কোনও আশঙ্কা তৈরি হয়নি। কিন্তু রাতেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বাড়িতে ফোন আসে। মা জানান, তিনি তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, ফলে সেই ফোনটি ধরতে পারেননি। শুক্রবার সকালে ফের যোগাযোগ করা হয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। তখনই পরিবারের কাছে পৌঁছায় মর্মান্তিক সংবাদ—অনুপম আর নেই। এই খবর শুনে ভেঙে পড়েন বাবা রামপ্রসাদ মণ্ডল, মা মল্লিকা মণ্ডল সহ পরিবারের সকল সদস্য। কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়-স্বজনরাও।

নিহত অগ্নিবীরের দিদি রূপা মণ্ডল বলেন, “শুক্রবার সকালে ফোন আসে। মা হিন্দি বুঝতে পারছিল না। ফলে আমি ফোন ধরি। ফোনের ওপার থেকে হিন্দিতে বলা হয় ‘হোসলা রাখিয়ে’। তারপরেই জানানো হয় গুলিতে মৃত্যু হয় ভাইয়ের। এরপর আর ফোনে কথা বলার মতো ক্ষমতা ছিল না।” তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনুপমের মামা সমীরণ মণ্ডল জানান, ছোটবেলা থেকেই দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। কয়েক মাস আগেই সরস্বতী পুজোর সময় ছুটিতে বাড়ি এসেছিল অনুপম। পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যায় কর্মস্থলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা হয় তাঁর। এরপর খাওয়াদাওয়া করতে যাওয়ার কথা বলে ফোন কেটে দেয়। পরে ফের ফোন করার কথা বললেও আর অনুপমের ফোন আসেনি। এসেছিল সেনাবাহিনীর ফোন। তখন সব শেষ।

গ্রামের তরতাজা যুবকের অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সোঁজ গ্রাম। সর্বত্রই এখন শোকের ছায়া, প্রিয় সন্তানের এমন পরিণতিতে স্তব্ধ পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার মানুষ এখন তাঁর দেহ আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *