“সিবিআই তদন্তে ন্যায় বিচার মিলবে কি?,” প্রশ্ন সমাজকর্মীদের

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৫ মার্চ:
বগটুই গণহত্যা মামলায় সিটের তদন্তে সংশয় প্রকাশ করেও সিবিআই তদন্তেও ন্যায় বিচার মিলবে কিনা, সেই প্রশ্ন তুললেন সমাজকর্মীদের একটি দল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: “বগটুই গ্রামে মার্চ ২১-২২ তারিখে যে নির্মম হত্যালীলা চলেছে, সেই সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট আজ সিবিআই তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের গঠিত এসআইটি যে তদন্তের নামে একটি প্রহসন চালাচ্ছিল সেটা মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনের নাটুকে গ্রেপ্তারের মধ্যে দিয়েই পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু সিবিআই-ও কি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত করে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে পারবে?

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের দলদাসে পরিণত হয়েছে, তেমনি সিবিআই আজ মোদী সরকারের হাতের পুতুল। বিজেপি-র সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনরকম বোঝাপড়া তৈরি হলেই সিবিআই তদন্ত ঠাণ্ডা ঘরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা, যেটা সারদা-নারদের মতন দুর্নীতি মামলায় দেখা গেছে। এর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সিবিআই তদন্তকে পুরোপুরি হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এনে সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে।

বগটুই গণহত্যা ঘটেছে রামপুরহাট থানা থেকে খুবই অল্প দূরত্বে। তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বোমাবাজিতে খুন হওয়ার পরেও পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে বেশ কয়েক ঘণ্টা নিষ্ক্রিয় থেকেছে, যেই সময়ের মধ্যে একটা খুনের বদলা নিতে আরেক গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা অবাধে নিরীহ মহিলা-শিশুদের নির্মমভাবে অত্যাচার করে হত্যা করে। প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহ-সহ ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শাসকদলের নেতৃত্ব এবং পুলিশ কর্তাদের উঁচু স্তরের মদত ছাড়া এটা সম্ভব হত না।

বগটুই-এর নারকীয় হত্যালীলার জন্য সরাসরি দায়ী বীরভূম জেলার মাফিয়াতন্ত্র, যার মাথায় বসে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অনুব্রত মণ্ডল, আশীষ ব্যানার্জি-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব এবং বালি-পাথর-কয়লা মাফিয়াচক্রের সাথে জড়িত বীরভূমের এসপি-সহ পুলিশকর্তাদের একাংশ। এরাই প্রথমে টিভি থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লেগে গ্রামের মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বলে গণহত্যাকে আড়াল করতে চেয়েছিল। অনুব্রত মণ্ডল এবং ওর শাকরেদ জেলা পুলিশ কর্তাদের পদে বহাল রেখে তদন্ত চালালে ন্যায় বিচার কখনোই হবে না, যেমন আনিস খান হত্যার মামলায় হচ্ছে। এদের পদ থেকে অবিলম্বে সরিয়ে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।

বীরভূমের গোটা মাফিয়াচক্রকেই সিবিআই তদন্তের আওতায় আনতে হবে। দেউচা-পাঁচামিতে কয়লা খনি বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বীরভূমের এই মাফিয়াচক্রের নির্দেশেই মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এই নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে নালিশও জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বিরোধীদের ‘চক্রান্ত’ বলে যেভাবে বগটুই গণহত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সেটা শুধু হাস্যকর নয়, সেটা নির্লজ্জতা এবং ঔদ্ধত্যের একটা চরম নিদর্শন। এই পৈশাচিক ঘটনার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শিক্ষা না নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা মাফিয়াতন্ত্রের অবসানে অবিলম্বে সচেষ্ট না হলে জনগণ তাদের উচিত শিক্ষা দেবে।”

বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন স্বরাজ ইন্ডিয়ার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভীক সাহা ও রাজ্য সভাপতি সঞ্জীব মুখার্জি, জয় কিষাণ আন্দোলনের রাজ্য সভাপতি প্রবীর মিশ্র, সারা ভারত শ্রমিক স্বরাজ কেন্দ্রের রাজ্য আহ্বায়ক রাম বচ্চন, পশ্চিমবঙ্গ মিড-ডে মিল রাঁধুনি সমিতির রাজ্য সভাপতি অমিতাভ মিত্র ও মহিলা স্বরাজের রাজ্য সভাপতি সুফিয়া খাতুন আজ আলি ইমরান রামজ, কুণাল দেব, পীযুষ রায়, প্রদীপ চ্যাটার্জি, সুদীপ ব্যানার্জি, অনিন্দ্য সরকার, নৌশাদ আলম, বীরেন মাহাতো, জয়দেব মুখার্জি, অমর্ত্য রায় ও প্রসেনজিৎ বসু প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *