আমাদের ভারত, ৮ নভেম্বর: শুধু কলকাতা-হাওড়া কেন?
সব পৌরসভাতেই একসঙ্গে ভোট করানো হোক, এই দাবি নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে বিজেপি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। একই বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে দলের তরফে।
সুকান্ত বাবু জানান, বিজেপি রাজ্যের সব পুরো নিগমে একসাথে ভোটের লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভায় রাজনৈতিক স্বার্থেই শাসক দল আলাদা করে ভোট করাতে চাইছে। আমরা সমস্ত পুরসভা বা কর্পোরেশনে একসঙ্গে ভোট চাই আর সেই লক্ষ্যে আমরা আদালতেও যাচ্ছি। জনস্বার্থ মামলা করব। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই আরেকটি মামলা হয়েছে আমরাও যাব।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “হাওড়া ও কলকাতা কর্পোরেশনে আগেই ভোট করিয়ে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাব, যদি একসঙ্গে ভোট না করানো যায়, সেক্ষেত্রে গণনা একসঙ্গে করাতে হবে। বিজেপি যখন একসঙ্গে ভোট চাইছে তার মানে বিজেপির সেই ক্ষমতা আছে। সমস্ত পুরসভা ও পৌরনিগমের একসঙ্গে আমরা ভোটে লড়তে পারবো।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা ও হাওড়ার ভোট চেয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
এদিকে সোমবার রাজ্য নির্বাচনকে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের কোনও অধিকার নেই বেছে বেছে নির্বাচন করানোর। দুটোতে হবে বাকিগুলোতে কেন হবে না? গণতন্ত্রকে এভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা চলবে না। সারা পশ্চিমবঙ্গের ভোট কেন হবে না? উত্তর দিতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে।
বিজেপির বক্তব্য, ১০০-র বেশি পুরসভার ভোট বাকি। প্রসাশক মন্ডলী পরিষেবা দিচ্ছে, কেন সেটা হবে? বিধানসভা উপনির্বাচন হয়েছে, এবার পুরভোট হওয়া দরকার। প্রয়োজন পড়লে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। আর এই দাবিকে সামনে রেখে বিজেপি আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে। এক্ষেত্রে আদালত রায় কি দেয় তার উপর পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা স্থির হবে। তবে হাইকোর্টের রায় সন্তোষজনক না হলে তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
এ বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই একই দাবি করে এসেছি, একসঙ্গে ভোট হোক। সেটা সকলেই চান। বাম আমলেও তাই হয়েছে। একটা ফেব্রুয়ারিতে হবে আরেকটা মার্চে হবে এর তো কোনো যুক্তি নেই। কেন আলাদা করা হচ্ছে, কে জানে? এখনতো সমস্ত পৌরসভা বেআইনি, আইনি পৌরসভা বলে পশ্চিমবঙ্গে কিছু নেই। এক বছর, দু বছর, তিন বছর, এসব বেআইনি পৌরসভার সবকটাতেই ভোট হওয়া দরকার। তাহলে দফায় দফায় ভোট করানোর কি যুক্তি?
সুজন চক্রবর্তী আরও বলেন, “কোনও সমস্যা থাকলে বলতে পারতো, পুরো নিগমগুলির একসঙ্গে হবে পুরসভাগুলির একসঙ্গে ভোট হবে। কিন্তু সেটাও নয়”। আলাদা করে দুটোতে ভোট করানো একটা ছক বলে দাবি করেছেন সুজন।

