“বাংলাদেশের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী চুপ কেন?”, শিলিগুড়িতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিলে যোগ দিয়ে বললেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১৮ অক্টোবর: বাংলাদেশে দুর্গাপুজোয় ভাঙ্গচুর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সরব গোটা বিশ্ব। সেই ঘটনার প্রতিবাদ শুরু হয়েছে এপার বাংলাতেও। বাংলাদেশের ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সোমবার শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ দেখায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেই প্রতিবাদে সামিল হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো অভিযোগ তুললেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। পালটা বাংলাদেশের ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করার পাশাপাশি আগুন নিয়ে খেলা করছে বলে তীব্র কটাক্ষ রাজ্যের শাসকদলের নেতৃত্বের।

সোমবার শিলিগুড়ির হাসমি চক থেকে বাংলাদেশের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কালো ব্যাজ পরে ধিক্কার মিছিল বার করা হয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে। প্রতিবাদ মিছিলে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি পা মেলান শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। মিছিলটি হাসমি চক হয়ে হিলকার্ড রোড ধরে মহকুমাশাসকের দপ্তরে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিক শেখ হাসিনা সরকার। পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ওই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিক প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই দুঃসাহসিক ঘটনা পুনোরবৃত্তি যাতে না ঘটে তা সুনিশ্চিত করুক বাংলাদেশ সরকার। এমনই দাবি নিয়ে মহকুমাশাসকের মাধ্যমে দেশের প্রধান মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে এক স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।

মিছিলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “বাংলাদেশের ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটা শব্দ পর্যন্ত বলেননি। তিনিই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি হিজাব পরে ছবি পোস্ট করেছিলেন। রাজ্যের সরকারি অনুদানে দূর্গাপূজা হয়। আগামীদিনে রাজ্যে দুর্গাপূজা হবে তো? আসলে মুখ্যমন্ত্রী ধর্মীয় মৌলবাদকে সরাসরি প্রশ্রয় দিচ্ছেন।”

শঙ্কর ঘোষের মন্তব্যে পালটা দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অলোক চক্রবর্তী বলেন, “শাসকদলের কর্মী হয়ে বলছি। আগুন নিয়ে বিজেপি যেন না খেলে। নির্বাচনে হারার পর বাংলাভাগের চক্রান্ত করল। এবার এটা বাংলাদেশের ইস্যুকে হাতিয়ার করতে গিয়ে যেন আগুন নিয়ে না খেলা না করে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *