‘তিন বছর পর তদন্ত শুরু, কোনও বিশেষ কারণ?’ দেহরক্ষী খুনের মামলায় রাজ্যকে প্রশ্ন হাইকোর্টের

রাজেন রায়, কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বর: সোমবার সকালে সিআইডিতে তলব করা হলেও যাননি শুভেন্দু অধিকারী। বরঞ্চ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হতে পারেন, এই আবেদনে হাইকোর্টের কাছে রক্ষাকবচ দাবি করেন তিনি। সোমবার সকালেই সুরক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছিলেন শুভেন্দুর আইনজীবী। আর দুপুরেই সেই মামলায় রক্ষাকবচ পেলেন বিরোধী দলনেতা। দেহরক্ষী খুনের ওই মামলা সহ মোট তিনটি মামলায় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

২০১৩ সালে ১৩ অক্টোবর মৃত্যু হয়েছিল বর্তমানে বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী শুভব্রত চট্টোপাধ্যায়ের। আর সেই মামলায় মাস কয়েক আগে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন তিন বছর পর হঠাৎ তদন্ত শুরু হল? সেই প্রশ্নই এদিন তুললেন বিচারপতি।

এ দিন মোট শুভেন্দুর বিরুদ্ধে হওয়া পাঁচটি মামলার শুনানি হয়, তার মধ্যে তিনটি মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রাম, মানিকতলা, কাঁথি, পাঁশকুড়া ও ফুলবাগানের মোট পাঁচটি মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। দেহরক্ষী খুনের মামলা সহ মোট তিনটির স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলার তদন্ত চলবে, তবে কোনও এফআইআর করতে গেলে হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও শুভেন্দু অধিকারীকে তলব করল সিআইডি? আদালতে এই প্রশ্ন রেখেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য। দেহরক্ষী খুনের সেই মামলায় রাজ্যকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন বিচারপতি। বিচারপতি রাজশেখর মান্থা অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে প্রশ্ন করেন, ‘কোনও বিশেষ কারণ আছে? যার জন্য এই মামলার নতুন করে তদন্ত করতে হচ্ছে?’ জবাবে কিশোর দত্ত পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘শুভেন্দু কেন সিবিআই তদন্তের কথা বলছেন? একজন বিরোধী দলের নেতা, একজন বিধায়ক কিভাবে তদন্ত এড়াতে পারেন? বিচারপতি আরও বলেন, ‘তিন বছর প্রয়োজন হল না কাউকে জিজ্ঞেস করার? এখন কি পরিবেশ বদলাল, যে তদন্ত পুনরায় শুরু করা হল? অ্যাডভোকেট জেনারেলের জবাব, ‘প্রাথমিক তদন্ত চলছিল। এবার আসল তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজন হয়।’

কেন এই তিন বছরে নিহতের স্ত্রীও সামনে এলেন না, সেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গ্রেফতার আসলে প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই দেশে এটাই প্রচলিত, নতুন কিছু নয়। তিন বছর কিছু হয়নি৷ এমনকি স্ত্রীও আসেন নি। এটাই উদ্বেগের।’ তিনি আরও বলেন, ‘বলছি না তদন্ত করবেন না। গ্রহণযোগ্য কিন্তু এই মুহূর্তে জরুরি কি না সেটা দেখতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *