শিক্ষিকাকে বিবস্ত্র করে মারধর করবার পরেও কেন মীমাংসা করেছিলেন ত্রিমোহিনী স্কুলের প্রধান শিক্ষক?

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৩ জুলাই: হিলির ত্রিমোহিনী প্রতাপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা চৈতালী চাকি’কে নিগ্রহ করবার ভিডিও ভাইরাল হতেই সামনে এসেছে আরো একাধিক তথ্য। যা শুনলে রীতিমতো অবাক হতে হবে।

বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে ক্লাসের বাইরে থাকায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর কান ধরে একটি চড় দিয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা। এরফলে নাকি ওই ছাত্রীর হিজাব সরে গিয়েছিল। আর তাতেই সদলবলে ওই ছাত্রীর বাড়ির লোকেরা স্কুলে এসে শিক্ষিকাকে বিবস্ত্র করে মারধর করে। যে ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিন্দায় সরব হয়েছেন প্রায় সকলেই। কিন্তু প্রশ্ন ছিল তারপরেও প্রধান শিক্ষক কমল কুমার জৈন কেন মীমাংসার পথে হাঁটলেন? যা এদিন সামনে এনেছেন এক শিক্ষক।

তাঁর কথায় ওইদিনের ঘটনায় শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রায় সকলেই আতঙ্কিত। কেননা স্কুলে ঢুকে তারা শুধু মাত্র শিক্ষিকাকে বিবস্ত্র করেই ক্ষান্ত হননি। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেবার পাশাপাশি স্কুলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতেও চেয়েছিলেন। শনিবার হিলি থানায় করা লিখিত অভিযোগে এমনটাই উল্লেখ করেছেন প্রধান শিক্ষক। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিরদৌস মন্ডল, আফ্রুজা মন্ডল, জাকির হোসেন, মাসুদা খাতুন ও মাফুজা খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকাকে নিগ্রহের ঘটনার পর এদিন যেভাবে স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্র ছাত্রীদের রাস্তায় নামতে দেখা যায়, তাতেই যেন কিছুটা উজ্জীবিত হতে দেখা গেছে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের। আর তাতেই নিজেদের মধ্যে থাকা আতঙ্ক কাটিয়ে দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক কমল কুমার জৈন বলেন, ঘটনা তিনি নিজেও মেনে নিতে পারেননি। ওই ঘটনার পর শুধু আক্রান্ত শিক্ষিকাই নয়, তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছিলেন। তবে এদিন ছাত্রদের এভাবে পাশে পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *