৪০টা ট্রাঙ্কে বোঝাই করে অর্পিতার বাড়ি থেকে টাকা কোথায় গেল?

শ্রীরূপা চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, ২৩ জুলাই:
হাজার হাজার কিংবা লক্ষ লক্ষ নয়। সাধারণের ধরাছোঁয়া শুধু নয়, কল্পনারও বাইরে, একেবারে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার খাস কলকাতায়। বস্তা বস্তা টাকা উপুর চুপুর হয়ে পড়ে আছে। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মডেল-অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সেই ২১ কোটিরও বেশি টাকা কোথায় গেল? টাকার পরিমাণ এতো যে তা রাখতে ৪০টা ট্রাঙ্ক আনা হল। আর সেই ট্রাঙ্কগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা বড় লরিও আনা হয়েছিল।

অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ২১ কোটির বেশি টাকা। এছাড়া প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ও ৫০ লক্ষের বেশি টাকার সোনার গয়না। রাজ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তার ঘনিষ্ঠ অর্পিতাকে গ্রেফতার করেছে ইডি। একথা সবার জানা। কিন্তু কোথায় যাবে এই কোটি কোটি টাকা? কে পাবে সেই টাকা? সেই প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে কম বেশি সবারই মনে।

শুক্রবার রাতেই কোটি কোটি টাকার খোঁজ মেলায় অর্পিতার বাড়িতে আসেন ব্যাংকের কর্মীরা। আসে টাকা গোনার মেশিন। শুরুতে নগদের পরিমান ২০ কোটির বেশি বলে জানিয়েছিল ইডি। তবে গণনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেখা যায় মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ২২ লাখ টাকা। শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ রিজার্ভ ব্যাংকের তরফে অর্পিতার বাসভবনে পাঠানো হয় এক বিশাল লরি। সেই লরিতেই তোলা হয় চল্লিশটা ট্রাঙ্ক। যাতে বোঝাই ছিল অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি টাকা। আপাতত রিজার্ভ ব্যাংকের লকারে থাকবে টাকা।

বাজেয়াপ্ত করা প্রতিটা নোটের নম্বর মিলিয়ে তা রাখা থাকবে হিসেবের খাতায়। তবে রিজার্ভ ব্যাংক যে কোন ব্যাংককে নিজের তত্ত্বাবধানেও তা রাখতে পারে। বর্তমানে এই বিশাল অংকের টাকা রাখা হয়েছে এসবিআইয়ের স্ট্যান্ড রোডের শাখায়।

কোনও চুরি বা ডাকাতির ঘটনায় সাধারণত বাজেয়াপ্ত করা অর্থ পুলিশ তাদের মালিকানায় রাখে। মামলা চলাকালীন সময়ে টাকার কোনও দাবিদার সামনে এলে তা যথাযথ প্রমাণ সহ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অন্যথায় তা সরাসরি চলে যায় সরকারি কোষাগারে। কিন্তু এক্ষেত্রে যেহেতু টাকার অংক কোটি কোটি, তাই সরাসরি মাঠে নেমেছে রিজার্ভ ব্যাংক। যতদিন অর্পিতার বিরুদ্ধে মামলা চলবে ততদিন তার নামে রিজার্ভ ব্যাংকের হেফাজতে রাখা থাকবে। মামলা চলাকালীন সময়ে যথাযথ প্রমাণ সহ টাকা দাবি করতে পারলে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে। না হলে চলে যাবে কেন্দ্রীয় কোষাগারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *