আমাদের ভারত, ২৮ মে:
শেষ পর্যন্ত জাল ডক্টরেটের হাত থেকে আসলরা সার্টিফিকেট নেবে? কি বাকি থাকল আর? দুর্নীতি, চাটুকারিতা আর কলুষিতাই বটে। রাজ্যপালের বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসানোর বিষয়ে চুড়ান্ত কটাক্ষ করলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে রাজ্যপালের বদলে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এব্যাপারে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীকে পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য করতে বিধানসভায় বিল আনার পরিকল্পনা করছে তৃণমূল সরকার।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভায় সকলের সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বাংলার সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদের দায়িত্বে থাকবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তে ব্যাপক বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ করেছে বিজেপি।
এবার এ প্রসঙ্গে রাজ্যের শাসক দল সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন। এটি খুব হাস্যকর এবং দুর্ভাগ্যজনক। পিএইচডি, সাহিত্য একাডেমির এপাং ওপাং ঝপাং নবান্ন থেকে উপাচার্যদের মাথায় ড্যাং ড্যাং। শেষমেষ জাল ডক্টরেটের হাতে আসলরা সার্টিফিকেট নেবে? কি বাকি থাকল আর? দুর্নীতি, চাটুকারিতা আর কলুষিতাই বটে।”
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর কথায় এই সিদ্ধান্ত শিক্ষায় তৃণমূলীকরণ ছাড়া আসলে আর কিছুই নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি লিখেছেন, “এবার মাননীয়ার সৌজন্যে শিক্ষাঙ্গনের তৃণমূলীকরণ শুরু। যে আচার্য পদে এতদিন আসীন ছিলেন মহামহিম রাজ্যপাল এবার থেকে সেই পদে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী।” তিনি বলেছেন, “হীরক রানীর রাজ্যে সবকিছুই সম্ভব।”

