জ্ঞানেশ্বরী কাণ্ডে আটক অমৃতাভই কি আসল অমৃতাভ? ডিএনএ পরীক্ষা করবে সিবিআই

রাজেন রায়, কলকাতা, ২১জুন: মৃত সেজে জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার সময় নিজের বোনের জন্য সরকারি চাকরি ও রেলের দেওয়া ৪ লক্ষ টাকা হাতায় অমৃতাভ চৌধুরী। নিজাম প্যালেসে অমৃতাভ ও তাঁর বাবাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সিবিআই’য়ের কাছে নাটক করে অমৃতাভ জানান, তাঁর ‘স্মৃতিশক্তি’ হারিয়েছে। তাই বিপাকে গোয়েন্দারা। কিন্তু প্রতারক অমৃতাভ’র চালেই খেলছে এবার সিবিআই।

জানা গিয়েছে, ডিএনএ সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি ও ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল অমৃতাভের পরিবার, সেদিকেই নজর দিয়েছে সিবিআই। ‘আসল’ অমৃতাভকে খুঁজে বের করতে এবার ডিএনএ প্রোফাইলিং করানোর পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। জোড়াবাগানে থাকা অমৃতাভ আসল কিনা তাও সন্দেহ রয়েছে গোয়েন্দাদের। তাই ডিএনএ প্রোফাইলিংকে হাতিয়ার করে তদন্ত এগোতে চাইছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের গতকাল রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর অমৃতাভ জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার পর তাঁর স্মৃতিশক্তি হারিয়েছে, তাই কিছুই মনে নেই। তিনি ২০১৭ সালে বাড়ি ফেরেন, এতদিন কোথায় ছিলেন জানেন না। কিন্তু তিনি আসল ব্যক্তি এটাই দাবি করেছেন অমৃতাভ।

২০১০ সালে ২৮ মে মাওবাদী হামলায় জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর। সেই দুর্ঘটনায় বেঁচে থাকলেও অমৃতাভকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখিয়ে রেলকে ভুল তথ্য দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা এবং চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে অমৃভাভ ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে। এক দশক পর রেলের অডিটে ধরা পড়ে সেই তথ্য। সেই কারণেই গত শুক্রবার রাতে তাঁদের আটক করে সিবিআই৷ যদিও অমৃতাভর সেদিন অস্বীকার করে নিজেকে নকল বলে। যদিও তাঁর বাবা এই ভুয়ো তথ্য স্বীকার করে নিয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে সিবিআই সূত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *