রাজেন রায়, কলকাতা, ২১ জুন: রাজ্যকে যাবতীয় ক্ষমতার দায়িত্ব দেওয়ার পরও তা পালন করেনি রাজ্য সরকার। ভোট পরবর্তী হিংসায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে রাজ্যে এসে সরেজমিনে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই পর্যবেক্ষণের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায় রাজ্য। আর সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করে নিজেদের পর্যবেক্ষণে বহাল রাখলেন প্রধান বিচারপতি।
এদিন তিনি রাজ্যকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্য বলছে রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনের কাছে হিংসার কোনও অভিযোগই জমা পড়েনি, অথচ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে ৫৪১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তাই রাজ্য সরকারের উপর একেবারেই ‘আস্থা’ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করলে, রাজ্যের আপত্তি কীসের? রাজ্যের কাছে জানতে চান কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল।
রাজ্যে ভোটপরবর্তী হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আগেই একটি মামলা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতে এন্টালি বিধানসভা এলাকার বহু ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের ফেরায় পুলিশ। হাইকোর্টের তরফে তখনই, ঘরছাড়াদের ফেরাতে ৩ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত। ওই কমিটিতে জাতীয় ও রাজ্য মানবাধিকার কমিশন, রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সদস্যরা শামিল ছিলেন। সরাসরি যাতে ওই কমিটির কাছে অভিযোগ পৌঁছয়, তার জন্য একটি ইমেল আইডিও চালু করা হয়। তাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ২৪৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। আর সেই মামলার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ।

