“এর চেয়ে লজ্জার কী বা হতে পারে, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষককে রক্ষা করছেন,” মমতার হাঁসখালি মন্তব্যে কড়া নিন্দায় সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ১২ এপ্রিল: হাঁসখালিতে ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করার পর দেহ দাহ করে দেওয়া নিয়ে যখন নিন্দার ঝড় উঠেছে তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্যাতিতা গর্ভবতী ছিল কিনা? কেন পাঁচ দিন পর অভিযোগ দায়ের হলো? মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার কথায়,”এর চেয়ে লজ্জার কী বা হতে পারে, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষককে রক্ষা করছেন।”

টুইটারে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই মন্তব্যের ভিডিওটি পোস্ট করে লিখেছেন, “এর চেয়ে লজ্জার আর কী বা হতে পারে যে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষকদের রক্ষা করছেন? নদিয়ার হাঁসখালীতে একটি নাবালিকার ধর্ষণের ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রী তুচ্ছ মনে করছেন কারণ ওই ধর্ষক তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস নেতার ছেলে।”

বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গন উদ্বোধনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “মেয়েটি মারা গিয়েছে ৫ তারিখ, অভিযোগ দায়ের হয়েছে ১০ তারিখ। কেনো আগে অভিযোগ দায়ের করলেন না? কেন বডিটা পুড়িয়ে দিলেন? আমি সবটা না জেনেই বলছি, আসলে রেপ হয়েছে না প্রেগনেন্ট ছিল? নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল? নাকি কেউ ধরে চড় মেরেছে বা শরীরটা খারাপ হয়েছে। লাভ আফেয়ার্স তো ছিলই। বাড়ির লোকেরা তা জানতো পাড়ার লোকেরাও জানতো।”

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি রাস্তায় নেমেছে। ১২ ঘন্টা হাঁসখালি বনধ ডেকেছিল বিজেপি। বিজেপির মহিলা প্রতিনিধি দল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখাও করেছে। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই “প্রেগনেন্ট- লাভ আফেয়ার্স” মন্তব্যের বিরুদ্ধে মামলার আর্জি জানানো হয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত আবেদন জমা দিতে বলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *