আমাদের ভারত, ২১ জুন: সুরাবর্দির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার রক্ত মাখা ইতিহাস। দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং তার নির্দেশে হয়েছিল। এই বিষয়টি মাথায় রেখে এবার পদক্ষেপ করলো কলকাতা পৌরসভা। কলকাতায় সুরাবর্দি এভিনিউ- এর নাম বদলে হচ্ছে গোপাল মুখার্জি রোড। রবিবার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, গতকাল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে সুরাবর্দি এভিনিউ এর নাম পরিবর্তন করে স্বর্গীয় গোপাল মুখার্জির নামে গোপাল মুখার্জি রোড করার জন্য কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের গৃহীত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এমন এক ব্যক্তির নামে পরিচিত ছিল, যার নাম বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত বলে বিতর্ক রয়েছে। রক্ষকের প্রতীক হিসেবে গোপাল মুখার্জিকে সম্মান জানানো হয়েছে বলে মনে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত নায়কদের স্মরণ এবং ইতিহাসের ভুল সংশোধনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
১৯৪৬ সালে নেহেরু তখন দিল্লিতে অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী। অখন্ড বাংলা শাসনের দায়িত্বে তখন মুসলিম লিগ। তার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুরাবর্দি। তার নির্দেশে ১৬ আগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’র প্রেক্ষিতে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটে। যা পরবর্তীতে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে পরিচিত হয়। কলকাতায় ছিল মহড়া, আর পুরো বিষয়টি কার্যকর করা হয় নোয়াখালিতে।
১৯৪৬- এর ১৬ আগস্ট সকালে মুসলিম লিগ যখন অ্যাকশন শুরু করে তখনো পর্যন্ত কলকাতার হিন্দুরা বিষয়টা বুঝে উঠতে পারেনি। কারণ ওই দিন বিকেলে কলকাতার তথাকথিত প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দুরা ময়দানে মনুমেন্টের তলায় মুসলিম লিগ ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির যৌথ মিটিং শুনতে গিয়েছিল। ১৯৪৬- এ মুসলিম লিগের নেতৃত্বে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং শুরু হলে রুখে দাঁড়ান গোপাল মুখোপাধ্যায় ও তার ভারতীয় জাতীয় বাহিনী।প্রবাদ হয়ে গিয়েছিল গোপাল ছিলেন বলে টালা ট্যাঙ্ক আছে, শিয়ালদা স্টেশন আছে, আপনি আর আমি রয়েছি। আর সেই প্রবাদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উল্টোদিকে এক চিলতে মাংসের দোকান। দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং রুখে দিয়েছিলেন যিনি সেই গোপাল মুখোপাধ্যায়ের পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল, সেই কারণেই তিনি গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁকে স্মরণ করে এবার থেকে বেনিয়াপুকুর এলাকার রাস্তার নাম সুরাবর্দি এভিনিউ থেকে বদলে হলো গোপাল মুখার্জি রোড।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর পোষ্টের পরেই রাস্তার নাম নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, যে সুরাবর্দির নামে এই রাস্তার নামকরণ করা হয় তিনি আদৌ গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং- এর সঙ্গে যুক্ত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এই সুরাবর্দি নাকি একজন অনুবাদক শিল্পী ও সমালোচক ছিলেন। যদিও এটা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

