Habra, District Council, ক্লাবের লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ, গ্রেফতার জেলা পরিষদ কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতি চক্রবর্তী

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২২ জুন: আর্থিক তছরুপের অভিযোগে এবার পুলিশের জালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। নারায়ণপুর সেবা সংঘ ক্লাবের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতি চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করলো হাবড়া থানার পুলিশ। এদিন সাধারণ জনতা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম বৃষ্টির সৃষ্টি করে ও ‘চোর চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয় নারায়ণপুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নারায়ণপুর সেবা সংঘ ক্লাবের আর্থিক লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ উঠছিল। ক্লাবের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে হাবড়া থানার পুলিশ। তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি হাতে আসার পর রবিবার জ্যোতি চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই নারায়ণপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্লাব সদস্যদের একাংশ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পুলিশ যখন ধৃত কর্মাধ্যক্ষকে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। পাশাপাশি চারদিক থেকে ভেসে আসে ‘চোর চোর’ স্লোগান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ধৃতকে নিরাপত্তার সঙ্গে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয় পুলিশ।

জেলা পরিষদের একজন বর্তমান কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ এবং তার গ্রেফতারিকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ক্লাবের সাধারণ সদস্য এবং এলাকার মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত জ্যোতি চক্রবর্তীকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বারাসত আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে একাধিক নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *