অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্রীয় বাজেটকে স্বাগত জানালেন যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ পঙ্কজ রায়।
বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি এবং এ বিষয়ে ১২টি বইয়ের লেখক পঙ্কজবাবু এই প্রতিবেদককে বলেন, “২০২০-তে যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল জাতীয় আয়ের (জিডিপি) (-) ৭ শতাংশ, সেখানে ’২১-এ তা হয়েছে ৯.২ শতাংশ, ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে হবে ৮-৮.৩০ শতাংশ। ভারতের মত দেশে মূলধনী বিনিয়োগ একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়। সেটা গত বাজেটে ছিল ৫.৪ লক্ষ কোটি টাকা। সেটা বেড়ে হচ্ছে ১০.৬৮ লক্ষ কোটি টাকা। এটি জিডিপি-র ৪.১ শতাংশ।
রাস্তা-রেল, বিমান, বন্দর, গণপরিবহণ প্রভৃতিকে আনা হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি যোজনা’য়। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারিত হবে আরও ২৫ হাজার কিলোমিটার। প্রতিরক্ষা বাজেটের ৬৮ শতাংশ বিনিয়োগ হবে মূলধন খাতে। এটি আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করবে। ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৬.৯ শতাংশ। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে তা কমে হবে ৬.৪ শতাংশ। অতিমারিতে ত্রাণ বা সহায়তা হিসাবে বিপুল বিনিয়োগের পরেও রাজস্ব ঘাটতির এই ছবি একটা আর্থিক শৃঙ্খলার পরিচয় দিচ্ছে।
আরও দেড় লক্ষ ডাকঘরকে কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে আনা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি উপকৃত হবে। সমবায় এবং কর্পোরেটে সারচার্জ ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। সেস এবং সারচার্জ থেকে সংগৃহীত অর্থ বরাদ্দ করা হয় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ও জাতীয় শিক্ষা মিশনে। ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্য মিশন ও শিক্ষা মিশনে সংশোধিত কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ৩৪ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা এবং ৩০ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা, বাজেটে ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হচ্ছে যথাক্রমে ৩৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ৩৯ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।
গতবার মোট খরচের বাজেট ছিল ৩০.৪২ লক্ষ কোটি টাকা। সংশোধিত পরিমাণ ছিল ৩৪.৫০ লক্ষ কোটি টাকা। এবার ধরা হয়েছে ৩৯.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২২-’২৩ বাজেটে কৃষি ও কৃষক-কল্যাণ, গ্রামোন্নয়ন এবং রেল— এই তিন ক্ষেত্রে বরাদ্দ হয়েছে যথাক্রমে ১ কোটি ৩২ লক্ষ ৫১৩ কোটি টাকা, ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ২০৩ কোটি টাকা এবং ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৩৬৭ কোটি টাকা। গত বাজেটে এই তিন খাতে বরাদ্দের চেয়ে এবারের বরাদ্দ অনেক বেশি।

