জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১ ফেব্রুয়ারি: টিউমার ডিম্বাশয়ে! সেটাও আবার প্রায় ৫ কেজি ওজনের। এমনই বিরল অস্ত্রোপচারে সাফল্যের নজির রাখল দুর্গাপুর ইএসআই হাসপাতাল। সোমবার অস্ত্রোপচার হওয়া ওই রোগিনী আপাতত সুস্থ।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ওই রোগিনীর নাম উমা তন্তুবায়। ৫১ বছর বয়সী ওই মহিলা দ্ররিদ্র পরিবার। খিদে না পাওয়া, পেট বড় হয়ে যাওয়া নিয়ে ভুগছিলেন। দুর্গাপুর ইএসআই হাসপাতালে চিকিৎসা করান তিনি। সেখানে তার ইউএসজি ও এমআরআই করা হয়। তাতেই ধরা পড়ে তার ডিম্বাশয়ে টিউমার। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিলম্ব না করে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার দুর্গাপুর ইএসআই হাসপাতালে স্বল্প পরিসরে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সৌগত সরকারের তত্ত্বাবধানে ওই মহিলার অস্ত্রোপচার হয়। এছাড়াও ছিলেন ডঃ স্বরূপ মুখোপাধ্যায়, ডঃ সৌগত ঘোষাল, ডঃ পূর্নিমা আচর্য। অ্যানাস্থেটিকে ছিলেন ডঃ নিরঞ্জন সাহা ও ডঃ উত্তরণ বোস।
ঝু্ঁকি থাকলেও অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। প্রশ্ন, এই অস্ত্রোপচার বিরল কেন? হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সৌগত সরকার জানান, “ওই মহিলার ডিম্বাশয়ে থাকা টিউমারটি বিরল ঘটনা। এটি হাইডাটিড (Hydatid) সিস্ট। মুলত মানুষের লিভারে তৈরী হয়। কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসেও পাওয়া যায়। তবে ডিম্বাশয়ে এটি বিরল।” তিনি আরও বলেন, “মূলত ইকাইনোকোক্কাস গ্রান্যুউলোসাস নামে এক ধরনের কৃমি। এটা কুকুরের শরীরে হয়। এই কৃমি থেকে হাইডেটিড সিস্ট তৈরী হয়। কুকুরের সংস্পর্শে থাকলে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, সাবধানতা অবলম্বন না করলে মানুষের শরীরে এধরনের কৃমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। খালি পায়ে হাঁটা চলা, না ধুঁয়ে ফল সবজি খাওয়া থেকে এধরনের কৃমি হয়। এটি পরবর্তী কালে হাইডাটিড সিস্ট তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার না করলে জীবনহানির আশঙ্কা থাকে।”
অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বল্প পরিসরে অস্ত্রোপচার করা হয়। ঝুঁকি থাকে, অস্ত্রোপচারে অ্যানাফাইলেক্টিক রিয়াকশন হয়ে থাকে। ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মহিলার ডিম্বাশয়ে পাওয়া টিউমারটি ২০ বাই ১৫ সেন্টিমিটার ছিল। প্রায় ৫ কেজি ওজনের। তবে এধরনের বিরল অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে।”

