রাজস্ব আদায়ের নামে তোলা আদায়, রাজগ্রামে পথ অবরোধ লরি মালিকদের

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১ ফেব্রুয়ারি: সরকারি রাজস্ব আদায়ের নামে তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনে নামল লরি মালিকরা। খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ গেলে লরি মালিকরা তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে অবরোধ হঠিয়ে দেয়। এই ঘটনা বীরভূমের রাজগ্রামের।

প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলায় শিল্প বলতে পাথর শিল্প। জেলার রাজগ্রাম, নলহাটি, রামপুরহাট, শালবাদরা, পাঁচামি এবং সিউড়িতে ছ’টি রাজস্ব আদায়ের গেট রয়েছে। ওই গেটগুলিতে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কর্মীদের দিয়ে নির্দিষ্ট রশিদের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করার কথা। কিন্তু জেলার কোনও গেটেই সরকারি কর্মী থাকে না। ওই গেটগুলি এক কথায় শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই গেটগুলিতে সরকারি রশিদ কাটে কিছু দুষ্কৃতী। হাতে মোটা মোটা বাঁশ নিয়ে লরি থামিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। এমনকি সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যের থেকে অনেক বেশি টাকা জোর করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এনিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে। কিছুদিন পর আবার সব চুপচাপ। এবার বিক্ষোভ দেখালেন রাজগ্রাম এলাকার লরি ব্যবসায়ীরা। লরি মালিক মফিজুল ইসলাম বলেন, “আগে লরি পিছু আড়াই হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিতাম। এখন সেই রাজস্ব বেড়ে পাঁচ হাজার হয়ে গিয়েছে। সরকারি রাজস্ব আদায় করছে মস্তান বাহিনী। আমরা চাই অনলাইনে রাজস্ব নেওয়া হোক। প্রতিটি গেটে সরকারি আধিকারিক দিয়ে রাজস্ব আদায় করা হোক। কোনও মস্তানের হাতে আমরা রাজস্ব দেব না। এই গেট থেকে প্রতিমাসে ছ’কোটি টাকার বেশি আদায় হয়। অথচ সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। আমরা চাই রাজস্বের নামে ওঠা সমস্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হোক। তাতে রাজ্যের উন্নয়ন হবে।”

জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক অসীম পাল বলেন, “আমরা লোক পাঠিয়েছি। যা বলার জেলা শাসক বলবেন”। জেলা শাসক বিধান রায় বলেন, ‘সরকারি টোলে কোনও বাইরের লোক থাকতে পারে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *