আউশগ্রামের সাহেবডাঙায় অবাধে মাটি কেটে পাচার হচ্ছে

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১ ফেব্রুয়ারি: ডাঙা জমি। গর্ত কেটেও বসানো হয়নি চারাগাছ। আর ওই ডাঙা জমি কেটে রাতের অন্ধকারে চলছে মাটি পাচার। মাটি কাটার ফলে তৈরি হচ্ছে বিশালাকার খাদ। প্রশ্ন উঠেছে বৈধতা নিয়ে। ক্ষুব্ধ পরিবেশকর্মীরা। প্রশ্ন উঠেছে ভুমি রাজস্ব দফতরের ভুমিকায়। এমনই নজিরবীহিন চিত্র ধরা পড়ল আউশগ্রামের ভাল্কি অঞ্চলের সাহেবডাঙা এলাকায়। 
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আউশগ্রামের জঙ্গলমহলে মাটি চুরির অভিযোগ ওঠে। মাসখানেক আগে দেবশালার গোবিন্দপুর জঙ্গল কেটে অবাধে চলছিল মাটি চুরি। খবর চাউর হতেই নড়ে চড়ে বসে বন দফতর। এবার ভাল্কি পঞ্চায়েতের সাহেবডাঙা এলাকায় রাতের অন্ধকারে চলছে মাটি কেটে পাচার। সাহেবডাঙার আদিবাসী স্কুলের পিছনে সরকারি কয়েক’শ একর ডাঙা জমি রয়েছে। সেখানে গাছ বসানোর জন্য গর্ত কাটাও হয়েছিল একসময়। কিন্তু অদৃশ্য কোনও কারনে সেই বৃক্ষ রোপন আর হয়নি। জমির আশপাশে একাধিক মোরাম খাদ রয়েছে জলপুর্ন। তারপরও নতুন করে ডাঙা জমিতে অবাধে চলছে মাটি ও মোরাম কাটার কাজ। আবার ওই  পঞ্চায়েতের মানকর লাগোয়া সেচ ক্যানেলের পাশে জমিতেও অবাধে চলছে মাটি তোলার কাজ।

পাশেই রয়েছে হাইটেনশেন বিদ্যুতের খুঁটি। দিন রাত চলছে মাটি তোলার কাজ। আর এই অবৈজ্ঞানিক উপায়ে মাটি তোলায় চাষ জমির ক্ষতির আশঙ্কা করছে চাষীরা। ভুমি রাজস্ব দফতর সুত্রে জানা গেছে, মাটি কাটতে হলে নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হয়। মাটির পরিমান অনুযায়ী রয়্যালটি ও সেস জমা দিতে হয়। তার ওপর চালান দেওয়া হয়। কিন্তু, ভুমি রাজস্ব আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অবাধে চলছে মাটি চুরি।

কোথাও ডাঙা জমিতে গাছ লাগানোর বদলে মাটি চুরি আবার সেচ ক্যানেল লাগোয়া জমিতে মাটি কাটার কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ পরিবেশকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, “জঙ্গলে জলাশয় দরকার। তবে সেটা বিজ্ঞানসম্মত হওয়া দরকার। যেখানে জঙ্গলের পশুদের জলপান করতে সুবিধা হবে। কিন্তু, আউশগ্রামে জঙ্গল লাগোয়া ডাঙা জমিতে গাছ না লাগিয়ে যেভাবে মাটি কেটে খাদ তৈরী হচ্ছে, তাতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। জঙ্গলের জীবজন্তদের ঝুঁকি রয়েছে। ওই খাদে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ও প্রানহানি হতে পারে জীবজন্তুদের।”

এভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদে সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়া অ্যান্টি করাপশেন অর্গানাইজেশেনের দুর্গাপুর শাখা। সংগঠনের সদস্য সুব্রত মল্লিক জানান, “পরিবেশ থেকে মাটি কাটতে হলে ভুমি রাজস্ব দফতরের নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হয়। তার জন্য সরকারকে মাটির পরিমান অনুযায়ী রয়্যালটি ও সেস জমা দিতে। কিন্তু আউশগ্রামের ভাল্কি অঞ্চলে যেভাবে মাটি চুরি চলছে, তাতে সরকারের প্রভুত রাজস্ব লোকসান হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে অভিযোগ জানাবো।”

যদিও এবিষয়ে আউশগ্রাম -২ নং ব্লক ভুমি রাজস্ব আধিকারিক ইন্দ্রানী সরকার বলেন, “কোটাচন্ডীপুর এলাকায় শিল্পতালুকের জন্য কিছু মাটি তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ভাল্কী অঞ্চলে মাটি তোলার কোনও অনুমোদন নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *