আমাদের ভারত, ১ ফেব্রুয়ারি: এই বাজেট দেশের আর্থিক উন্নয়ন এর বাজেট। এমনটাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন দেশের আর্থিক সংস্কারের জন্য শুধু শিল্প নয় কর্মসংস্থানেও গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে। আর সেই কথাকেই গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন জানান, আগামী ৫ বছরে ৬০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে দেশে।
কর্মসংস্থানের অভাব আর বাড়তে থাকা বেকারত্ব নিয়ে গত একবছরে বহুবার কেন্দ্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধীরা। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের হারের পরিসংখ্যান তুলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। কিন্তু মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাজেটে দেখা গেল দেশের মানুষের কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা করেছেন অতিমারি পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেছে দেশ। উন্নত করা হচ্ছে পর্যটন রয়েছে একাধিক পরিষেবা। আগামী পাঁচ বছরে এসব ক্ষেত্রগুলি ছাড়াও আরও অন্য ক্ষেত্রেও ৬০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। চাকরি পাবেন দেশের বেকাররা।
নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তথ্যপ্রযুক্তি হাব তৈরি হবে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এই হাব তৈরি করবে। এছাড়াও দেশে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত জাতীয় সড়ক এবং এক্সপ্রেসওয়ে বিস্তার করা হচ্ছে। ১১টি নতুন মেট্রো লাইন চালু হতে চলেছে। এইসব ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলের ব্রডব্যান্ড পরিষেবায় জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে বলা হয়েছে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছে যাবে। চলতি বছরের শেষে শুরু হচ্ছে ফাইভ-জি স্পেকট্রাম পরিষেবা। সেখানেও কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়াও বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি দেশে তৈরি করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। শহর এবং শহরতলীতে চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সেখানেও নিয়োগ হবে নতুন কর্মী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে সাহায্য করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। ঋণ দেয়া হবে ১০ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীকে।
রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই জানিয়েছিলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে।বহু ক্ষেত্রেই নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশের এশিয়ার বৃহত্তম বিমানবন্দর তৈরীর কথা বলেছেন তার কাজ চলছে। দিল্লি মুম্বাই এক্সপ্রেস হয়ে তৈরি হবে। বহু স্টার্টআপ সংস্থা আর এইসব ক্ষেত্রে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। এরপর অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ উঠে এলো।

