“শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সভাপতি হলে তাকে ওয়েলকাম,” বললেন দিলীপ ঘোষ

আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ অক্টোবর: শুভেন্দু অধিকারীকে যদি রাজ্য বিজেপি সভাপতি পদে বসানো হয়, তাহলে তাকে স্বাগত জানাবেন। দল যাকে ঠিক করবে তাকে নেতা বলে মেনে নেবেন। খড়্গপুরে চা চক্রে বসে এমনটাই বলেছেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

খড়্গপুরে চা চক্রে যোগ দিতে গিয়ে একাধিক বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি সাংসদ তথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাকে প্রশ্ন করা হয় শুভেন্দু অধিকারী যদি রাজ্য সভাপতি হন, সেক্ষেত্রে কি করবেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় দিলীপ ঘোষ ঝটপট উত্তর দেন, “শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সভাপতি হলে তাকে ওয়েলকাম। যেই হোক সে আমাদের নেতা। আর যা ঠিক করবে পার্টি।”

দেউচা পাঁচামি নিয়ে রাজ্য সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেউচা পাঁচামি নিয়ে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, এত বছর হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার কোল ব্লক দিয়েছে অন্যান্য রাজ্যে কাজ শুরু হয়ে গেলেও এইখানে কিছুই হয়নি। এতদিন যারা মানুষকে উস্কেছিলেন জমি দেবেন না বলে, আজ তার বিরুদ্ধে তার সামনেই পড়েছেন। আদিবাসী সমাজ চাইছে না তাদের জমি দিতে,তার কারণ এই সরকারের উপরে তাদের বিশ্বাস নেই। তারা তাদেরকে হঠিয়ে দিলেনে, তাদের জমিও যাবে চাকরিও পাবেন না। আগে তো নিশ্চিত করতে হবে তাদের পুনর্বাসন, তখন জমি পেতে পারে ওরা।”

দেউচা পাঁচামীতে মাওবাদী প্রসঙ্গ নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “উনারা যদি জেনেই থাকেন তাহলে অ্যারেস্ট করছেন না কেন? এইসব গল্প বলে কতদিন ধরে মাওবাদী মাওবাদী বলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন মমতা দিদি। নন্দীগ্রামে মাওবাদীদের ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছেন, এখন মাওবাদীর ভয় কেন? আপনারাও তো মাওবাদীদের সঙ্গে ছিলেন। যদি অন্যায় করছে তাহলে আটকানো দরকার। আপনাদের হাতে তো পুলিশ আছে।”

খড়গপুর আইআইটি’র ছাত্র মৃত্যু নিয়ে দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। বলা হয়েছিল দিলীপ ঘোষের উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণেই ওই ছাত্রকে খুন করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অজিত মাইতি’কে কার্যত আক্রমণ করলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বললেন, “দেখুন টিএমসির ওছা নেতা মেদিনীপুরের। আমাদের মেদিনীপুরেরই বদনাম হয়ে যাচ্ছে। লোক মেদিনীপুরের নেতাদের বুদ্ধিমান শিক্ষিত বলে মনে করে। আর অজিত মাইতির মতন কিছু গাম্বাট নেতা রয়েছে দেখলেই চোর চোর মনে হয় চেহারাটা। সে কোথায়, দিলীপ ঘোষ কোথায়? আইআইটি বোঝেও না আইআইটির আশেপাশেও যায় না। কাটমানি ছাড়া কিছু বোঝেনা। এই মালটা কত টাকা নিয়েছে জেলা পরিষদের চাকরি করিয়ে দেওয়ার নাম করে সেই সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। দরকার হলে তাকে একবার ঢোকাবো কেষ্টার কাছে পাঠাবো। সময় হচ্ছে, তৈরি থাকুন, সেই জন্য বুদ্ধি বিদ্যার প্রয়োগ করুন। এই ভাবে কথা বলে রাজনীতি ডাউন করে দিচ্ছে আর মেদিনীপুরের নাম বদনাম করে দিচ্ছে।”

দিলীপ ঘোষের মন্তব্য প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অজিত মাইতি বলেন, “উনি কিছুদিন আগে রাজনীতিতে এসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং বিধায়ক ও সাংসদ হয়েছেন। উল্টোপাল্টা কথা বলায় উনি ওস্তাদ। যার জন্য তার দলের লোকেরাই হাসাহাসি করে।

অশ্লীল ভাষায় কথা বলার সংস্কৃতি বিজেপির আছে কিনা জানি না, তবে এ বিষয়ে দিলীপ ঘোষের খ্যাতি আছে। উল্টোপাল্টা মন্তব্য করে উনি নিজেরই বারোটা বাজাচ্ছেন। উনাকে দলের লোকেরা এখন আর পছন্দ করছেন না। পঞ্চায়েত ভোটের পরে লোকসভা ভোট হবে। মেদিনীপুর কেন্দ্রে তাকে লক্ষাধিক ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ রাখছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *