আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১৪ ফেব্রুয়ারি : দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান। প্রথমবার শিলিগুড়ি পুরনিগম এককভাবে দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। সবুজ হলো শিলিগুড়ি। বাধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল কর্মী সমর্থকরা। সবুজ আবিরে ভরিয়ে দিলো গোটা শহর। তার সঙ্গে ছিলো খেলা হবে গানে নাচ। এদিকে বামেদের বিপর্যয়ে ফিকে হলো লাল রঙ। মাথা তুলে দাঁড়াতে পারল না কংগ্রেস। লোকসভা, বিধানসভায় ভালো ফল করলেও পুরনির্বাচনে সবুজ ঝড়ে উড়ে গেলো গেরুয়া শিবিরও।
সোমবার সকাল থেকে গণনা শুরু হতেই একের পর এক আসনে এগিয়ে যেতে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। শুরুতেই ২০নম্বর ওয়ার্ড জিতে খাতা খোলে তারা। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ওয়ার্ড তারা ছিনিয়ে নেয় বিরোধিদের কাছ থেকে। সকাল ৮টায় গণনা শুরু হয়েছিল কিন্তু ১ঘন্টা যেতে না যেতেই ট্রেন্ড দেখে বোঝা যায় পুরনিগম প্রথমবারের জন্য দখল করতে চলেছে তৃণমূল। সেই খবর পেয়েই শিলিগুড়ি কলেজের গেটের সামনে এসে কর্মী-সমর্থকরা ভিড় জমায়। সঙ্গে ছিলো ব্যান্ড পার্টিও, এক এক করে ফল বেরোচ্ছে আর তাদের যেন আনন্দের বাধ ভাঙছে। অনেক কর্মী কেঁদেও ফেললেন। এ যেন স্বপ্নপূরণের দিন তাদের কাছে। তাই এদিন আবির মেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। আনন্দে নাচতে নাচতেই এক কর্মী জয়ন্ত বসু বলেন, “অনেক কষ্ট করেছি। অনেক খেটেছি কিন্তু শিলিগুড়ি জিততেই পারছিলাম না। এবার এই শহরের মানুষ আমাদের দুহাত ভরে আশীর্বাদ দিয়েছে। তাই আনন্দে কেঁদে ফেলেছি।”
এদিকে এই জয়কে শিলিগুড়িবাসির কাছে উৎসর্গ করেন শহরের হবু মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, “এই জয় কর্মী-সমর্থকদের জয়। এই জয় শহরের মানুষের আশীর্বাদ। তাই তাদেরকেই উৎসর্গ করলাম। আর আমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেলো শহরবাসীর এই ঋণ শোধ করার জন্য। উন্নয়নের মাধ্যমেই আমরা শহরবাসীকে তাদের ঋণ শোধ করব।”
অন্যদিকে এই হারকে বামেদের বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেন অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “অবশ্যই এটা বামেদের বিপর্যয়। এরকম ফল কেন হলো তা অবশ্যই পর্যালোচনা করা হবে।”
এদিকে বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেন, “আমরা মানুষের কাছে পৌঁছতে পারিনি। তাই এই হার আমাদের ব্যর্থতার কারণেই হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে এখনই কিছু বলব না। কিন্তু ফলাফল নিয়ে অবশ্যই দলে আলোচনা করা হবে। আমরা এই ফল আশা করিনি।”

