পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ জুন: মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার করের প্রেরণা ও দিক নির্দেশনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত ভারত অভিযান (ইউবিএ) সেলের উদ্যোগে শুক্রবার দুটি জনসচেতনতা মূলক ও জনসম্পৃক্ততা মূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থিতিশীল উন্নয়নমূলক চর্চাকে উৎসাহ প্রদান এবং পরিবেশ রক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করাই ছিল এই কর্মসূচিগুলির প্রধান লক্ষ্য।

অনুষ্ঠান দুটি অনুষ্ঠিত হয় মেদিনীপুরের লোহাটিকড়ি গ্রামের লোহাটিকড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রাঙামাটির নির্মল হৃদয় আশ্রম, ক্যাথলিক চার্চ হাই স্কুলে। এই কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউবিএ দলের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। লোহাটিকড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫ জন, অনঙ্গবাড়ি বিদ্যালয়ের ১০ জন এবং ক্যাথলিক চার্চ হাই স্কুলের ৩০০-রও বেশি শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও নৃতত্ত্ব বিভাগের গবেষকরাও কর্মসূচিগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ‘এক পেড় মা কে নাম’ (মায়ের নামে একটি গাছ) অভিযানের অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং উন্নত ভারত অভিযান (ইউবিএ) দলের সদস্যরা যৌথভাবে চারা রোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরা হয়। পরবর্তী সচেতনতামূলক আলোচনায় পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ইউবিএ দলের সদস্য ড: প্রিয়াঙ্কা হালদার মল্লিক, ড: অভীক বিশ্বাস, ড: দীপা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ড: দীপান্বিতা দত্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ ভাষণ প্রদান করেন। আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব, নৃতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে মানবসভ্যতার সুদীর্ঘ অতীত সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের ব্যবহৃত পাথরের হাতিয়ারের প্রদর্শনী। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানব সভ্যতার বিবর্তন, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং পরিবেশের সঙ্গে মানুষের অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের সুযোগ পায়।
কর্মসূচিগুলি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে এবং দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই ধরনের জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

