আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ৫ জুন: জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভাঙ্গন এবং ঘূর্ণি ঝড়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলায় সুন্দরবনকে রক্ষা করতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মাতলা নদীর তীরে বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো। ‘উৎকর্ষে আরোহন’ ও ‘বিহান’ নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কৈখালী এলাকায় কয়েক হাজার ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়।
আয়োজকদের মতে, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ম্যানগ্রোভের ঘন জঙ্গল প্রাকৃতিক ঢালের কাজ করে, নদী ভাঙ্গন রোধ করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সুন্দরবনের বহু এলাকায় ম্যানগ্রোভের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সেই প্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ।

এদিন মাতলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাইন (Avicennia officinalis), কাঁকড়া (Bruguiera gymnorhiza) এবং সুন্দরী (Heritiera fomes) প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।
উৎকর্ষে আরোহনের আহ্বায়ক অনুপম মজুমদার বলেন, শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলির দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোপিত চারাগুলির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে কৈখালী রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং এলাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে গ্রামবাসীদের সচেতন করতে বিশেষ প্রচার কর্মসূচিও নেওয়া হয়।
বিহানের সম্পাদক সৌমেন দাস বলেন, “সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে ম্যানগ্রোভ বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই। আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ দিবস পালন নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার।” ‘সুন্দরবনকে বাঁচাতে, মাতলা নদীর পাড়ে সুন্দরী তুলবে মাথা হাজারে হাজার’ এই বার্তাকে সামনে রেখেই আয়োজিত হয় দিনের কর্মসূচি।

