চড়া দামে ভ্যাক্সিনের লাইন বিক্রি বালুরঘাটে, জুয়ার টাকা জোগাড়ে ইট প্রতি দুশো টাকা করে আদায় দালালদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৬ জুন: কোভিড ভ্যাক্সিনের লাইন নিয়ে দালালরাজ খাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। রাতের অন্ধকারে লাইনে ইট রেখে গরিব মানুষদের কাছ থেকে টাকা তুলছে দালালরা। চড়া দামে ভ্যাক্সিনের লাইন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় সাধারণ মানুষ। নজর নেই প্রশাসনের। কয়েকদিন ধরে চলা এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল আলোড়ন গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে উদগ্রীব মানুষজনের হুড়োহুড়ি প্রতিদিনই বাড়ছে ভ্যাক্সিনের লাইনে। ভোর হতেই দূর দূরন্ত থেকে বালুরঘাটের খাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যায় ভ্যাক্সিন দেওয়ার নিয়ম থাকায় অনেকেই আগে ভাগে লাইন দিয়েও পিছিয়ে পড়ছেন। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে রাতের অন্ধকারে ইট দিয়ে লাইন দখল করছে কিছু অসাধু চক্র। সকাল হতেই টাকার বিনিময়ে ওই ইট বিক্রি করছেন তোলাবাজরা। ভ্যাক্সিন পেতে চড়া দামেই তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ বেশকিছু দিন সরকারি হাসপাতালের সামনে এমন দালালরাজ চললেও নিশ্চুপ রয়েছে প্রশাসন। যা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভ্যাক্সিন নিতে আসা মানুষজন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কর্মী সকলেই।

শ্যামল সরকার, পূর্ণিমা দাস ও সুনিতা সুরিরা জানিয়েছেন, ভোর বেলা এসেও লাইন পাচ্ছেন না। কিছু অসাধু লোকজন রাতে ইট দিয়ে লাইন ধরে রাখছে। আর সকাল হতেই তা চড়া দামে বিক্রি করছে তাদের মতো সাধারণ মানুষজনের কাছে। যারা কিনতে পারছেন না তাদের ভ্যাক্সিন না নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

খাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালের এক স্বাস্থ্য কর্মী এমন অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাতে ওই দুষ্কৃতিরা এলাকায় জুয়ার আসর চালাচ্ছে। আর তার টাকা তুলতে ইট দিয়ে জায়গা ধরে রেখে ভ্যাক্সিন নিতে আসা লোকজনের কাছে ২০০ টাকা করে লাইন বিক্রি করছেন ওই তোলাবাজরা। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

হাসপাতালের আশপাশে জুয়ার আসরের কথা স্বীকার না করলেও ভ্যাক্সিনের লাইনে ইট পেতে যে টাকা আদায় হচ্ছে তা কার্যত স্বীকার করেছেন হাসপাতালের বিএমওএইচ অর্পণ সরকার। তিনি জানিয়েছেন, এমন ঘটনা শুনেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সিভিক কর্মীদের সাথে কথা বলেছেন এবং পুলিশের সাথেও ইতিমধ্যে আলোচনা সেরেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *