আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৯ মে: শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-এর উপস্থিতিকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি।

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএন শাসমল হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি “পাবলিক হেলথ ম্যানেজমেন্ট” কোর্সেরও শুভ সূচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই কোর্স চালুর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীরা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আধুনিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তাঁদের পেশাগত ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর, মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, গবেষক, ছাত্র- ছাত্রী এবং জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।
পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো এবং শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ঘুরে দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন বলেও জানা যায়।

সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি জেলার উন্নয়ন নয়। গোটা পশ্চিমবঙ্গের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও উন্নত পরিকাঠামো ও আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কেন্দ্র সরকার একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমি আপ্লুত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামী দিনে এখান থেকে আরও বহু মেধাবী ছাত্র- ছাত্রী দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।”

অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে আরও নতুন কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই সফর এবং নতুন কোর্সের সূচনা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি জেলার উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

