Amal Panda, BJP, TMC, “মানস ভুঁইঞা প্রচুর মিথ্যা কথা বলেন, আমাকে বিজেপি তকমা দিয়ে অপমান করার পিছনে তাঁরই হাত ছিল,” দাবি সবংয়ের বিধায়ক অমল পণ্ডার

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৯ মে: সবংয়ের রাজনীতিতে ফের বিস্ফোরণ ঘটালেন বিজেপি বিধায়ক অমল পণ্ডা। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত বিস্ফোরক ভাষায় আক্রমণ শানালেন তাঁর প্রাক্তন রাজনৈতিক সঙ্গী মানস ভুঁইঞাকে। সেইসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকেও একহাত নিয়েছেন তিনি।

অমল পণ্ডার সাফ দাবি, “আমার দল ছাড়ার জন্য প্রথম দায়ী মানস ভুঁইঞা, তারপর অভিষেক ব্যানার্জি।” তিনি বলেন, “মানসবাবুকে আমি এখনও সম্মান করি, কিন্তু তিনি প্রচুর মিথ্যা কথা বলেন। আমাকে বিজেপি তকমা দিয়ে অপমান করার পিছনে ওঁরই হাত ছিল।”

এদিন অভিষেক ব্যানার্জিকে নিশানা করে অমল পণ্ডা কড়া মন্তব্য করেন, তিনি বলেন, “অভিষেক বাচ্চা ছেলে। রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড বলতে কিছুই নেই। একমাত্র পরিচয় তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আত্মীয়।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে অভিষেক যে ভাষায় কথা বলেছিলেন, সরকার পরিবর্তন না হলে বাংলায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হত। হাজার হাজার মানুষ ক্ষতবিক্ষত হতেন।” তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য, “এই দলটা তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে

অমল পণ্ডার অভিযোগ, আইপ্যাকের এক কর্মীর মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠানো হত মানস ভুঁইঞার কাছে। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছে। এমনকী বিভিন্ন মামলার পিছনেও মানস ভুঁইঞার ভূমিকা ছিল।”

নিজের রাজনৈতিক যাত্রার প্রসঙ্গে আবেগঘন সুরে অমল পণ্ডা বলেন, “আমি চাষির বাড়ির ছেলে। কোনও দিন ভাবিনি বিধায়ক হব। কিন্তু এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। তিনিই প্রথম বলেছিলেন, আপনাকে প্রার্থী হতে হবে, এই বিধানসভা আমার চাই।”

শুভেন্দুর প্রশংসায় তিনি আরও বলেন, “ওঁকে দার্শনিক বললেও কম বলা হবে। বিজেপিতে যোগদানের পিছনেও তিনিই মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন।” তবে সমস্ত রাজনৈতিক তিক্ততার মাঝেও মানস ভুঁইঞার ভাই বিকাশ ভুঁইঞার প্রশংসা করতে ভোলেননি অমল পণ্ডা। তিনি বলেন, “বিকাশ অত্যন্ত ভাল ছেলে। ও যে কোনও দলের সম্পদ। যদি বিকাশ প্রার্থী হত, তাহলে আমি নির্বাচনে লড়তাম না।”

এই বিষয়ে মানস ভুঁইঞার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *