সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৩০ মে: জাল তফসিলি শংসাপত্র তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ালো বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করলো বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ ঘোষকে। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী উমা ঘোষকেও আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। উমা ঘোষ অতীতে ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি তদন্তের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে বনগাঁর শিমুলতলা এলাকার নিজ বাসভবন থেকে প্রসেনজিৎ ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পরবর্তীতে প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উমা ঘোষ একটি জাল তফসিলি শংসাপত্র ব্যবহার করেছিলেন। সেই শংসাপত্র সংগ্রহ ও তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রসেনজিৎ ঘোষের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তদন্তে উঠে এসেছে, জাল শংসাপত্রের মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সংরক্ষিত পদ লাভের অভিযোগে একাধিক নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ জমা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই গ্রেপ্তারি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উমা ঘোষ ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থাকাকালীন সময়ে তাঁর তফসিলি পরিচয় নিয়ে বিরোধীদের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। যদিও সেই সময় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও প্রশাসনিকভাবে কোনও বড় পদক্ষেপ করা হয়নি। বর্তমানে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসার পরই পুলিশ সক্রিয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় বনগাঁ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, সংরক্ষিত আসনের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগ থাকতে পারে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই গ্রেপ্তারির বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জাল শংসাপত্র তৈরির পুরো চক্রের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হতে পারে। তদন্তকারীরা তাঁদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাতে পারেন বলে সূত্রের খবর। পুরো ঘটনার দিকে এখন নজর রয়েছে জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

