সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৮ জুন: আজ বনগাঁর নীলদর্পণ প্রেক্ষাগৃহে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী বিকাশ ঘোষ। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁর মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, বনগাঁ থানার আইসি সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এই জনকল্যাণ শিবিরের মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শিবিরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংক্রান্ত সহায়তা গ্রহণ করেন। শিবির পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, “সরকারের লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিটি মানুষ যেন তাদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা পান, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। শান্তনু ঠাকুর আরও বলেন, “বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে দুর্নীতিবাজদের কোনো জায়গা নেই। ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন তাদের কাজ শুরু করেছে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তদন্তের মাধ্যমে সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের গ্রেফতার করা হবে। এটি শুধু সময়ের অপেক্ষা।“
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে শান্তনু ঠাকুর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উদ্যোগে সাধারণ মানুষের কল্যাণে একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার মানুষ অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বর্তমানে সেই সমস্ত প্রকল্প ধীরে ধীরে রাজ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী দিনে আরও বহু প্রকল্প চালু হবে, যার সুফল সাধারণ মানুষ সরাসরি পাবেন।”
তিনি বাংলার শিল্পোন্নয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নতুন নতুন শিল্প আসছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। কাজের খোঁজে আর বাংলার যুবকদের অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না। রাজ্যের মধ্যেই কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে।“
এদিনের জনকল্যাণ শিবিরে বহু সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ, তথ্য প্রদান এবং সমস্যার সমাধানের জন্য বিশেষ কাউন্টারও খোলা হয়েছিল। উপস্থিত মানুষ সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন শিবির আয়োজনের দাবি জানান। জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে বনগাঁর নীলদর্পণ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং জনসেবার বার্তা তুলে ধরা হয় সাধারণ মানুষের সামনে।

