রক্ষকই ভক্ষক! হিলিতে মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ফের চালু অবাধ ওভারলোড ও তোলাবাজি, আইন হাতে তুলে নেবার হুঁশিয়ারি সাংসদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৬ এপ্রিল: রক্ষকই যখন ভক্ষকের ভূমিকায়। মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের ওভারলোড প্রক্রিয়া শুরু হিলিতে। শুরু হয়েছে অবাধ তোলাবাজির প্রক্রিয়া বলে অভিযোগ। খোদ আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের অধীনস্থ বালুপাড়া ট্রাক টার্মিনাসই যেন এখন ভরে উঠেছে অবৈধ ওভারলোড ট্রাকে। বাদ যায়নি পুলিশের নজরদারিতে থাকা পতিরাম থেকে হিলি অবধি ৫১২ জাতীয় সড়কও। সেখানেও সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে মালবোঝাই ওভারলোড লরিগুলি। পুলিশ ও আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের কর্তাদের চোখের সামনে কিভাবে চলছে এই আইন বিরুদ্ধ কাজ, যা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন? মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই বা কিভাবে চলছে এই অবৈধ ওভারলোড প্রক্রিয়া, যা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন? তবে এই অবৈধ প্রক্রিয়াকে সচল করতে ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। যাদের তোলাবাজিতেই রীতিমতো তিতবিরক্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত শহর। এদিক এই ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি তোলাবাজির অভিযোগ তুলে আইন হাতে তুলে নেবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ।

ভারত-বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হিসাবে চিহ্নিত দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরটি। যেখান দিয়েই প্রায় প্রতিদিন ২৫০-৩০০ টি পন্যবোঝাই লরি বাংলাদেশে যায়। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানেই বেশ কিছুদিন ধরে শুরু হয় অবৈধ ওভারলোড ও ওভারটেক প্রক্রিয়া। এক রাত পেরোলেই ওই দুই অবৈধ প্রক্রিয়ায় প্রায় কোটি টাকা তুলছেন কিছু অসাধু ব্যক্তি। যে খবর পৌঁছে গিয়েছিল খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কানেও। আর তাই উত্তর দিনাজপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে এব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলার পরিবহন দপ্তরকে। তড়িঘড়ি সেই নির্দেশকে কার্যকর করতে হিলির বালুপাড়া ট্রাক টার্মিনাসে রীতিমতো বোর্ড লাগিয়ে তাঁবু খাটিয়ে বসে পরিবহন দপ্তর। কিন্তু অবাক কান্ড! তারপরেই যেন শুরু হয়েছে আরো বেশি করে অবৈধ সেই ওভারলোড করার প্রক্রিয়া বলে অভিযোগ। বাদ যায়নি পুলিশি নজরদারিতে থাকা পতিরাম থেকে হিলি অবধি প্রায় কুড়ি কিলোমিটার রাস্তাও। যেখানে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই ওভারলোড লরিগুলি। শুধু তাই নয়, রাতের অন্ধকার বাড়তেই সেখানে চলছে অবৈধ ওভারটেকের প্রক্রিয়া বলেও অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারির পরেও কিভাবে প্রকাশ্য দিবালোকেই চলছে এই অবৈধ কারবার? যা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন হিলির একাংশ ব্যবসায়ীরা। এদিকে এই অবৈধ প্রক্রিয়াকে সচল করতে মাঠে নেমেছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। যাদের দৌরাত্ম্যে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে হিলি সীমান্ত শহর। সুত্রের খবর অনুযায়ী, ওভারলোড এই লরিগুলি থেকে পুলিশ ও পরিবহন দপ্তরের নাম করে প্রায় ১৬০০-১৭০০ টাকা আদায় করছে বেশ কিছু অসাধু ব্যক্তি। বেশ কিছুদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত শহরে এই তোলাবাজি চললেও পুলিশ বা প্রশাসন কেন নিশ্চুপ রয়েছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ এলাকার সাংসদ।

বালুরঘাটের সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, হিলি বর্ডারে আরটিও’কে সামনে রেখে ওভারলোডিংয়ে যথেচ্ছ ভাবে চলছে তোলাবাজি। এছাড়াও কিছু তোলাবাজ হিলি থেকে পতিরাম পর্যন্ত সারিবদ্ধ গাড়ির লাইন থেকে তুলছে টাকা। আর এই টাকার ভাগ পুলিশ থেকে শুরু করে সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন যদি এর বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ না করে তবে তারা রাস্তায় নেমে যদি কোনো অঘটন ঘটান, তার পুরো দায়ভার পুলিশের থাকবে।

জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিক সন্দীপ সাহা বলেন, কে কোথায় কার নাম করে টাকা তুলছে তা দেখবার জন্য পুলিশ ও প্রশাসন রয়েছে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে জানিয়েছেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *