আমাদের ভারত, ২৬ এপ্রিল: তামিলনাড়ুতে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা গেল রাজ্যপালের হাত থেকে। এই বিলে সায় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামহলের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠনের প্রধান পার্থিব বসুর মতে, “উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে থাকবে কি থাকবে না, তা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে যিনি নিয়োগ করছেন। এবং যিনি নিযুক্ত হচ্ছেন, তাঁরা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত কি না। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় আচার্যর ভূমিকা থাকা উচিত। আমাদের দেশে শিক্ষায় সরকারি হস্তক্ষেপ করা হয়। কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই সরকারকেই হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকতে হবে।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয়ন্ত রায়ের কথায়, “দেশের পবিত্র সংবিধানকে সবসময় মেনে চলতে হবে। কোনও রাজ্য যদি না মানে, তা দুর্ভাগ্যের। নীতি বা আইন পরিবর্তন করা যায়। আইন মেনেই তা করতে হয়। রাজনীতির লোকজন আচার্য বা উপাচার্য হোন, তা চাই না।“
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা সারা বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সম্পাদক গৌতম মাইতির মতে, “রাজ্যপালরা পদাধিকার বলে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হন। ওই পদে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বসানো উচিত নয়। শিক্ষাবিদদেরই আচার্য হওয়া উচিত। পাশাপাশি উপাচার্যপদও রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা দরকার। শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদদের দ্বারাই পরিচালিত হোক শিক্ষাক্ষেত্র। কেন্দ্র এবং রাজ্য, উভয়ের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়।“
প্রসঙ্গত, কয়েকমাস আগে এ রাজ্যে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাজ্যপালের হাত থেকে কেড়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এবার তামিলনাড়ুতে রাজ্যপালকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আচার্য নিয়োগের ব্যাপারে। সোমবার বিধানসভায় এ বিষয়ে বিল পাস করে তামিলনাড়ু সরকার। প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদদের মধ্যে।

