আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৫ এপ্রিল: করোনা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হওয়ায় পর ২ বছর বাদে ১৪২৯ সালে নববর্ষের দিন আবার ভক্তরা আগের মতই পুজো দিতে পারছেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে। পর পর দুই বছর করোনার কারণে নববর্ষের দিন সম্পূর্ণ ভাবে ভক্তদের জন্য প্রবেশ নিষেধ ছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে। তাই গত দুই বছর মন্দিরের বাইরে থেকেই প্রণাম করে ফিরে যেতে হয়েছিল ভক্তদের। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাই খুলে গেলো দর্শনার্থীদের জন্য মন্দিরের দরজা। তবে সমস্ত করোনা বিধি মেনে মাস্ক পরে প্রবেশ করতে হচ্ছে মন্দিরে। তবে এবার দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে মাকে পুজো দেওয়ার অনুমতি দিলেও কোনো ফুল দিয়ে পুজো দেওয়ার অনুমতি দেয়নি মন্দির কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ ফুল মালা ছাড়াই নতুন বছরে পুজো দিতে হবে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে।
দুই বছর বাদে পয়লা বৈশাখে দিন আবার পুজো দিতে পেরে বেজায় খুশি ভক্তরা। সকাল থেকেই লাখ ভক্তের সমাগম হয়েছে মন্দিরে। রাজ্য এমন কি রাজ্যের বাইরে থেকেও ভক্তরা এসেছেন ভোর থেকে লাইন দিয়ে রয়েছেন পুজো দেওয়ার উদ্যেশ্যে। এদিন বাঙালি ব্যবসায়ীরা দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে হালখাতা পুজো দিয়ে বছর শুরু করেন। তাই দুই বছর বাদে বহু বাঙালি এমন কি অবাঙালি ভক্তরাও এসেছেন হাল খাতার পুজো দিতে। অন্যান্য বারের মতো এবার দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুলিশি নিরাপত্তা বেশ জোরদার করা হয়েছে। মন্দিরে মহিলাদের সুরক্ষিত রাখতে মন্দির প্রাঙ্গণে ছিল মহিলা পুলিশদের বিশেষ টিম। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলা পুলিশ কর্মীদের নিয়ে এক বাহিনী গঠন করা হয়েছে যার নাম উইনার্স।
আজ দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে মহিলাদের সুরক্ষার জন্য এই উইনার্স নামক বাহিনীর আত্ম প্রকাশ ঘটে। এদিন পুজো দিতে আসা ভক্তরা দু’বছর বাদে মন্দিরে পুজো দিতে পেরে তাদের আনন্দের কথা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা মন্দিরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ দুই বছর পর নববর্ষের দিন পুজো দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সেই সঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা জন্য যে বিশেষ বাহিনী ব্যবস্থা করা হয়েছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সেটাও খুব ভালো পদক্ষেপ।”

