আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৩ আগস্ট: বাংলাদেশে পালানোর আগে এসটিএফের হাতে পাকচর রানা রউফ গ্রেফতারের পর সীমান্ত শহর বনগাঁয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চলছে পুলিশি তল্লাশি। এরই মধ্যে অস্ত্র পাচারের অভিযোগে বনগাঁ থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলো দুই যুবক। ধৃতদের নাম শহিদুল মণ্ডল ও অনুপ খান।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার পুলিশ বাজিতলা ও ফুলতলার কলম এলাকায় অভিযান চালায়। তল্লাশির সময় শহিদুল ও অনুপকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং দুটি ম্যাগাজিন। এরপরই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় উঠে এসেছে অস্ত্র কারবারের একটি চক্রের হদিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শহিদুল বিভিন্ন সূত্র থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তা গোপন জায়গায় মজুত করত। আর সেই অস্ত্র বাংলাদেশ- সহ বিভিন্ন এলাকার দুষ্কৃতিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করত। পুলিশের দাবি, এর আগেও বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের অভিযোগে পেট্রাপোল থানা, বনগাঁ থানা এবং বিএসএফের হাতে অনুপ গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ফের একই কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতির কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল অনুপ, এমনই খবর পুলিশের কাছে আসে। সেই সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পেট্রাপোল বন্দরের কাছে অনুপ ও তার বাবা তুষার খানের একটি দোকান রয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ব্যবসার আড়ালে ওই দোকান থেকেই বিভিন্ন অসাধু কারবার চলত। অস্ত্রের লেনদেনের সঙ্গেও দোকানটির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অসাধু কাজের অভিযোগে তুষার খানকেও এর আগে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, বাংলাদেশে থাকা দুষ্কৃতিদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ- সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত এই চক্র। লেনদেনের বিষয়টি চুড়ান্ত হওয়ার পর সীমান্তের দুই পারে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে টাকা ও অস্ত্র আদান- প্রদান করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথা থেকে অস্ত্র আসত এবং সীমান্তের ওপারে কারা অস্ত্র সংগ্রহ করত, সেই সমস্ত তথ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছে বনগাঁ থানার পুলিশ। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কোনও অস্ত্র বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

