দুই কুকুরের রক্তে বাঁচল আরও দুই কুকুরের প্রাণ

আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ১১ সেপ্টেম্বর: রক্তদান জীবনদান। জানেন সকলেই। মানুষের রক্তদানে বহু মানুষ ফিরে পান প্রাণ। কিন্তু কুকুরের রক্তে প্রাণ ফিরে পাবে কুকুর? তাও আবার পথ কুকুর। বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে অনেকেরই। কিন্তু হয়েছে তাই। দুই পথ কুকুরের রক্তদানে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আরও দুই পথ কুকুর। এমনই ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সিউড়ি। আর এই অবলা প্রাণী দুইয়ের জীবনরক্ষায় সেতু হয়েছেন এক সরকারি পশু চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

সিউড়িতে রয়েছে ‘নির্বাকন্ন’ নামক একটি পশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেই সংস্থার সদস্যরা রামপুরহাট ও সাঁইথিয়ার রাস্তা থেকে দিন কয়েক আগে উদ্ধার করেছিল দুই অসুস্থ কুকুরকে। পশু হাসপাতালে চিকিৎসায় ধরা পড়ে প্রথমটির পায়ের ক্ষত গভীর হয়ে ক্যান্সারের দিকে এগোচ্ছিল। অপরটির শরীরে ছিল বৃহদাকার টিউমার। অবিলম্বে দরকার ছিল অস্ত্রোপ্রচারের। পশু হাসপাতালের চিকিৎসক সৌরভ কুমার গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম কুকুরটির সামনের বাঁ পা অস্ত্রোপ্রচার করে বাদ দেন এবং গত ১ সেপ্টেম্বর অপর কুকুরটির দেহ থেকে টিউমার পৃথক করা হয়। দুই অস্ত্রোপ্রচারের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় কুকুর দুটির দেহ থেকে। অস্ত্রোপ্রচারের পর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির অফিসে রেখেই চলছিল কুকুর দুটির সুশ্রূষা। কিন্তু অবিলম্বে প্রয়োজন পরে রক্তের। কারণ এমনিতেই কুকুর দুটি রক্তাল্পতায় ভুগছিল। তার উপর অস্ত্রোপ্রচারে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। কিন্তু রক্তদানের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বাধ সাধে দু জায়গায়। প্রথমত, রক্ত মিলবে কোথায়? আর রক্ত সংগ্রহের ব্যাগই বা পাওয়া যাবে কি করে? কারণ সরকারি বিধিনিষেধে রক্তের ব্যাগ জেলার পশু হাসপাতালে সরবারহ সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের নানাস্তরে আরজি জানিয়েও সরকারিভাবে সেই ব্যাগ মেলেনি। তবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা খুঁজে খুঁজে রক্তদাতা হিসাবে জোগাড় করে ফেলেন ছ’টি পথ কুকুর। নানা চেষ্টার পর জোগাড় হয় রক্তের ব্যাগও। পুনায় থাকা একটি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে আনানো হয় রক্তের ব্যাগ।

অবশেষে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রায় পাঁচ ঘন্টা ধরে দুই পথ কুকুরের শরীর থেকে রক্ত নিয়ে অপর দুই পথ কুকুরের শরীরে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়েছে। বিপদমুক্ত হয়েছে কুকুর দুটি। সিউড়ি পশু হাসপাতালের চিকিৎসক সৌরভ কুমার জানিয়েছেন, ‘‘অস্ত্রোপ্রচারের পর অসুস্থ কুকুর দুটির শরীরে রক্তের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত কমে গিয়েছিল। অবিলম্বে রক্ত দিতে না পারলে বিপদের আশঙ্কা ছিল। রক্তদাতা হিসাবে যে কুকুরগুলিকে জোগাড় করা হয়েছিল তাদের রক্তের মেজর ক্রস ম্যাচিং করার পর দুটি কুকুর সক্ষম হয় রক্তদানে। রাজ্যে পথ কুকুরদের রক্তদান ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম।” ‘নির্বাকন্ন’ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্পাদক রাজর্ষি ঘোষ জানিয়েছেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পথ কুকুরদের নিয়ে কাজ করছি। ভালো লাগছে এমন একটা কাজ করতে পেরে। রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতা চার কুকুরই আমাদের তত্বাবধানে আছে। সুস্থ আছে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *