স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১১ সেপ্টেম্বর: নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তালদহ মাজদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্ত লাগোয়া গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম তালদহ। এই গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় পিএইচই জলের বিশাল ট্যাঙ্কার রয়েছে। বছর চারেক আগে মহা ধুমধাম করে গ্রামের মানুষের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছিল জলের ট্যাপ লাইন। ফলে গ্রামের বাসিন্দারা আর্সেনিক আক্রান্ত থেকে নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে নির্ভরশীল হয় ঐ জলের ওপর। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ঢাক ঢোল পিটিয়ে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি নেওয়া হয়। আর সকলকে চমকে দিয়ে বাড়ি বাড়ি জলের লাইনও পৌঁছে যায়। ফলে এলাকাবাসীরা সরকারের ঘোষিত কর্মসূচির প্রশংসা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ভোটের আগে জল আসলেও, ভোট মিটে যাবার পর কারো বাড়িতে জল আসছে না বলে অভিযোগ। ফলে গ্রামের বাসিন্দারা হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
গ্রামবাসীরা স্হানীয় বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে বারবার দরবার করেছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে গ্রামবাসীরা নদিয়ার ডিএম, রাজ্যের মন্ত্রী এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমস্যার কথা লিখিত ভাবে জানান। লিখিত অভিযোগের পর ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশ আসায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ফলে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। তাদের সে আশা যে অমূলক নয় তার প্রমাণ কৃষ্ণনগর থেকে জল দপ্তরের আধিকারিকরা গ্রামে পৌঁছলে তা বোঝা যায়। তারা আশ্বাস দেন বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেবার। কিন্তু বাস্তবে কোনও কিছুই হয়নি। এটা ছিল শুধু কথার কথা।
এলাকাবাসীরা জানান, মুখ্যমন্ত্রী তখন বলছেন কোনও অফিস ঠিকমতো কাজ না করলে আমায় জানান, অথবা এলাকার আধীকারীককে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েও যদি কাজের এই দশা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কি দুর্দশা হতে পারে তার প্রমাণ এটি। গ্রামের বাসিন্দা পরিমল বোস বলেন, ৬০০ পরিবার জল কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও এই ছবি সকলকে বেদনা দেয়। তালদহ মাজদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অঞ্জলী সর্দার বলেন, এই সমস্যার কথা জানিয়ে প্রধান ও বিডিওকে বারবার অনুরোধ জানানো সত্বেও কোনও কিছু না হওয়ায় প্রসাশনের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে ট্যাপ কলের পানীয় জল শূন্য অবস্থায় রয়েছে। গ্রামবাসীদের জল কষ্টের ছবি ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়। জলের যে ভয়াবহ সমস্যা দেখা দিয়েছে তা অবিলম্বে সমাধান প্রয়োজন।এখন সকলের নজর জল আসবে কবে?

