বাঘমুন্ডিতে শিকারী মুড়ার মৃত্যুর ঘটনায় আবগারী দফতরের দুই কর্মী গ্রেফতার

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১০ মার্চ: শিকারী মুড়ার মৃত্যুর ঘটনায় ২ আবগারী দফতরের কর্মীকে গ্রেফতার করল পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার পুলিশ। জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

গত মাসের ১৬ তারিখে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার রবিডি গ্রামে বেআইনী মদ বিক্রির বিরূদ্ধে অভিযান চালায় ঝালদা সার্কেলের আবগারী দফতরের কর্মীরা। সেখানে শিকারী মুড়া (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে আবগারী দফতরের কর্মীরা। তার কাছ থেকে ২০ লিটার দেশি মদ বাজেয়াপ্ত করে আবগারী দফতরের কর্মীরা। তাকে গ্রেফতার করে ১৭ তারিখ পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। ১৮ তারিখ জেলে থাকাকালীন অসুস্থ হওয়ায় জেল কর্তৃপক্ষ তাকে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২০ তারিখ রবিবার দুপুরে শিকারী মুড়ার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর খবর রবিডি গ্রামে বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা আবগারী দফতরের কর্মীদের বিরূদ্ধে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তুলে ঝালদা সার্কেলের আবগারী দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পিটিয়ে মারার সঙ্গে যে সব আবগারী দফতরের কর্মীরা যুক্ত তাদের শাস্তির দাবিতে তুলে বিক্ষোভ দেখান। ২২ ফেব্রুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পর দিন সকালে সেই মৃতদেহ নিয়ে বাঘমুন্ডি থানার চড়িদা মোড়ে পথ অবরোধ করে পরিবারের সদস্য সহ আশপাশের গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ। কেন্দ্রীয় আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিজেপি ধর্ণা মঞ্চ করে আন্দোলন করে চড়িদা গ্রামে। তারা সহ সংগঠিত আদিবাসীরা সিবিআই তদন্তের দাবি করে। এই ঘটনায় শিকারী মুড়ার ভাই লাল্টু মুড়া লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাঘমুন্ডি থানায়।

এই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)গঠন করে। সিট তদন্ত শুরু করে সেদিন আবগারী দফতরের যে সব কর্মীরা রবিডি গ্রামে অভিযানে গিয়েছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেই ঘটনায় গতকাল ঝালদা সার্কেলের আবগারী দফতরের ২ কর্মীকে গ্রেফতার করে। আজ তাদের জেলা আদলতে তোলা হয়। ধৃতরা হচ্ছে রিংকু মন্ডল ও মুস্তাফা সিরাজ। এই দু’জনেই ঝালদা সার্কেলের আবগারী দফতরের কনস্টেবল। তাদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা শুরু হয়েছে। বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

আফগারি দফতরের জেলা সুপারিনটেনডেন্ট আলোক সাহা ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমাদের দুই কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এটা পুলিশ তদন্ত করছে। আমাদের আর কিছু বলার নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *