মহম্মদবাজারে এক পারিবারিক খুনের মামলায় অনুব্রত ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডল গ্রেফতার

আশিষ মণ্ডল, বীরভূম, ৬ নভেম্বর: কেন্দ্রীয় এজেন্সির ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরেই বাসভবনে পুলিশের হাতে গ্রেফতার সিউড়ির প্রসিদ্ধ পাথর ব‍্যবসায়ী অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডল। দু’দিন আগে ইডির তলবে হাজিরা দিয়ে সিউড়ি ফেরেন তিনি। তারপর রবিবার তাঁর নিজস্ব বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ।

বীরভূম জেলার পাথর ব্যবসার সাথে জড়িত টুলু মণ্ডল। দিন কয়েক আগেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। তার আগে টুলুর বাড়িতে তল্লাশিও চালিয়েছিল ওই তদন্তকারী সংস্থা। এর পরই টুলুকে গ্রেফতার করল মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। গরুপাচার মামলায় বীরভূমের যে ব্যবসায়ীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সেই টুলু মণ্ডলকে এ বার গ্রেফতার করল বীরভূম পুলিশ। টুলু বর্তমানে গরুপাচার কাণ্ডে জেলবন্দি বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর মহম্মদবাজার থানার চড়িচা এলাকায় একটি খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে টুলুকে। শনিবার রাতে টুলুকে গ্রেফতার করে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। টুলুর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত, অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি নানা ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার টুলুকে হাজির করানো হয় সিউড়ি আদালতে।

জানা গেছে, চলতি বছরের তিন অক্টোবর মহম্মদবাজার থানার চরিচা গ্রামে বাড়ির ঢালাইকে কেন্দ্র করে নিহত হন জাকির মিঞা (৪৬)। তার ভাইপো সেলিম মিঞা এবং কাকাতো ভাই ইসরায়েল মিঞার ঝামেলা চলছিল। তাদের বিবাদ মেটাতে গেলে সেলিম মিঞা সহ পাঁচজন তার উপর লোহার কুড়াল দিয়ে আঘাত করে। তাকে প্রথমে মহম্মদবাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও তারপরে সিউড়ি সদরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার সাতাশ দিন পর জাকির মিঞা মারা যান। সেই ঘটনায় এদিন অনুব্রত ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। যদিও, নিহতের অভিযোগ পত্রে নাম ছিল না টুলু মণ্ডলের। এব‍্যাপারে পুলিশ মুখ খুলতে চাইছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *