Tuberculosis, Reshmi Group, in Kharagpur, খড়্গপুরে রেশমি গ্রুপের উদ্যোগে যক্ষ্মা সচেতনতা কর্মসূচি, আক্রান্ত পরিবারের হাতে সহায়তা

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
৬ সেপ্টেম্বর: দুর্গা পুজোকে ঘিরে বাংলার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ ঐতিহ্য। সেই পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজকে যক্ষ্মামুক্ত করার লক্ষ্যে জনসচেতনতা গড়ে তোলার বার্তা উঠে এলো খড়্গপুরে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে। রেশমি গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত যক্ষ্মা সচেতনতা কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুজো মণ্ডপের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

দুর্গাপুজোর সময় প্রতিমা ও পুজো মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি না করার বিষয়ে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ধর্মীয় স্থান ও পুজো মণ্ডপের পরিবেশের নিজস্ব পবিত্রতা রয়েছে। সেই পবিত্রতা বজায় রাখতে পুজো মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রির পরিবর্তে তার জন্য পৃথক স্থান নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে মাছ- মাংসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে ধর্মীয় স্থানগুলির মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম বড় উৎসব। তাই উৎসবের পরিবেশ যাতে সকলের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসকে সম্মান করে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

এদিনের অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল অবশ্য যক্ষ্মা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যক্ষ্মামুক্ত সমাজ গড়ে তোলার বার্তা। যক্ষ্মা একটি প্রতিরোধযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য রোগ হলেও এখনও সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই রোগ নিয়ে ভয়, ভুল ধারণা ও সামাজিক সংকোচ রয়েছে। সেই পরিস্থিতি দূর করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় কর্মসূচিতে।

রেশমি গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এই সচেতনতা কর্মসূচিতে যক্ষ্মা রোগের লক্ষ্মণ, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং রোগ সম্পর্কে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি যক্ষ্মায় আক্রান্ত কয়েকটি পরিবারের হাতে সহায়তাও তুলে দেওয়া হয়। রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আক্রান্ত পরিবারগুলিকে সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতা দেওয়ার এই উদ্যোগ অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড: সৌম্য শঙ্কর সারেঙ্গী, বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি, প্রশাসনের আধিকারিক- সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত অতিথি, প্রশাসনিক আধিকারিক, চিকিৎসক, সমাজের বিশিষ্টজন এবং কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান রেশমি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ভাস্কর চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলার অঙ্গীকার।

ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সম্মান করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে রেশমি গ্রুপের এই উদ্যোগ খড়্গপুরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। একদিকে পুজোর পবিত্রতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বার্তা, অন্যদিকে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াই, এই দুই ভিন্ন বিষয়কে একই মঞ্চে সামনে রেখে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তাই উঠে এসেছে এদিনের কর্মসূচিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *