অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি: এই বাজেট ভাল-মন্দ মেশানো। তবে, নতুনত্ব বা নাটকীয় কিছু নেই। এমনই মন্তব্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক ডঃ অজিতাভ রায়চৌধুরীর। ক্রিপ্টোকারেন্সির হাতবদল নিয়ে সরকার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, এবারের বাজেটকে বলা যায় কন্টিনিউটির বাজেট— প্রধানমন্ত্রীর গতিশক্তি পরিকাঠামো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-কেই বলা হয়েছে ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ’ কথার মাধ্যমে। আর ‘সিওপি ২২’ মাথায় রেখে সবুজ অর্থনীতির সম্বন্ধে নতুন করে বলা। নতুনত্ব বা নাটকীয় কিছু নেই।
সাহসী পদক্ষেপ হল ক্রিপ্টোকারেন্সির হাতবদলের উপর ৩০ শতাংশ কর। কিছু ক্ষেত্রে আমদানী শুল্ক কমিয়ে উৎপাদনের উপকরণের অপ্রতুলতা সামাল দেওয়া, অন্যত্র এটা বাড়িয়ে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-কে উৎসাহিত করা। এই সামাল দেবার কাজটা সমর্থনযোগ্য। সবশেষে ডিজিটাল জগতকে ছড়িয়ে দেবার প্রচেষ্টাকে গতি দেবার চেষ্টা সময়োচিত।
মূল্যবৃদ্ধিকে অযথা অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকারী খরচ হঠাৎ কমিয়ে দেবার পথে সরকার হাঁটেনি। এটা ভালো পদক্ষেপ। জীবিকা আর উপার্জন না থাকলে তো লোকে মূল্যবৃদ্ধি তো আরোই সামাল দিতে পারত না। কিন্তু দেশে আয়ের বৈষম্য বেড়ে চলায় দেশে বেশীর ভাগ লোকের খরচের প্রবনতা কমছে। সাধারণ মানুষ আয়করে কোনও বেশী ছাড় পেল না কারণ সরকারের টাকা দরকার- কিন্ত ১০ শতাংশ বিত্তশালী যাঁরা ৫৬ শতাংশ জাতীয় আয় ও ৬৫ শতাংশ সম্পদ ভোগ করেন, তাঁদের তো এই সময়ে অবস্থা আরও ভালো হয়েছে। এঁদের কর বাড়িয়ে স্বল্প আয়ের মানুষদের একটু বেশী করছাড় দেওয়া যেত না?“

